Header Ads

লাভ (উপন্যাস) পর্ব- ৮


লাভ
                          এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উপন্যাস (পর্ব-৮)

দু’জন চলে এলাে নির্জন সুন্দর এক মনােরম জায়গায়।

love


-হৃদয় বললাে, কি ব্যাপার কোথায় নিয়ে এলে? এসব জায়গায় আমি কোন দিন আসিনি।

-কেন এ জায়গা দেখতে তােমাকে খারাপ লাগলাে?

না, না খুব সুন্দর। আশে পাশে কেউ নেই নির্জন পরিবেশ। তােমার আমার গল্প করা খুব সুন্দর হবে।

-শান্তি বললাে সে জন্যই তাে নিয়ে এলাম। এখানে বসাে, এই বলে শান্তি হৃদয়ের হাত ধরে শান্তির কাছে বসলাে। হৃদয় ও শান্তি এক সঙ্গে বসে গল্প করছে। কিছুক্ষণ ওরা কথা বলছে না।

-শান্তি বললাে, কি ব্যাপার কথা বলছাে না যে। তােমাকে দেখে মনে হচ্ছে কি যেন গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাবছাে।

-তুমি যা বলেছাে ঠিক ।

-কি ভাবছাে বল।

-ভয় করছে।

-কিসের ভয়? ভাবছি তােমাকে নিয়ে। তােমার আমার ভালবাসা একদম আকাশ পাতাল হয়ে গেল। জানিনা ভবিষ্যতে আমার কপালে কি আছে।

-শান্তি একটু রেগে বললাে, খবরদার এই সমস্ত কথা বলবে না। আর ও সব আজেবাজে কথা কখনাে ভাববেওনা। কারণ আমি যা চাই তাই পাই। সে জন্য বলছি ওসব চিন্তা করে তােমার কোন লাভ হবে না। কারণ আমি তােমাকেই বিয়ে করবাে।

-হৃদয় একটু চিন্তা মুক্ত হয়ে বললাে, সত্যি বলছাে?

-সত্যি, সত্যি, সত্যি। -হৃদয় দেখলাে আসে পাশে কেউ নেই। খুশি হয়ে বললাে তােমাকে এক জিনিস উপহার দিব।

-কি জিনিস? -আগে চোখ বন্ধ কর।

-ঠিক আছে করলাম।

-হৃদয় চুপ করে শান্তির সুন্দর নরম গালে একটু চুমু খেলাে।

-শান্তি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাে। আমি ভাবতেই পারিনি তুমি এরকম উপহার আমাকে দিবে।

-কেন, তোমার পছন্দ হয়নি?

-শান্তি লজ্জায় কথা না বলে মাথা নেড়ে বললাে, হয়েছে ।

-কিছুক্ষণ পর হৃদয় বললাে, চল যাই ।

--আর একটু বসে গল্প কর।

--আমি গল্পই খুঁজে পাইনা। অনেক প্রেমিক তার প্রেমিকা কত সুন্দর সুন্দর সাহিত্য দিয়ে প্রেমের কথা বলে তার প্রেমিককে নরম করে ফেলে । কিন্তু তা পারি না। সেজন্য আমি তােমার কাছ থেকে আগে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

-ওই সব গল্প আমি শুনতে চাই না, তােমার যা মন চায় তাই বল । তােমার এমনি কথাও আমাকে খুব ভাল লাগে।

-ঠিক আছে তাহলে তােমাকে একটা গল্প শুনাই। গল্পটি বাস্তব। শান্তি বললাে, বল ।

-এক ছেলে আর এক মেয়ে।

-শান্তি বললাে, দু'জনের নাম কি কি? এখন বলবােনা পরে বলবাে । ধর ছেলেটির নাম লিখতে চার অক্ষর লাগে আর মেয়ের দুই অক্ষর। ছেলে ছিল হিন্দু। আর মেয়েটি মুসলমান এবং ধনী। ছেলেটির বাড়ি অনেক দূর। কিন্তু লেখাপড়ার জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে এক বাসা ভাড়া নেয়। বাসাটি মেয়ের বাড়ির পার্শ্বে । ছেলেটি প্রথম দেখাতেই মেয়েটিকে ভীষণ পছন্দ করে এবং ভালবেসে ফেলে। কিন্তু জানাতে খুব ভয় -কিছুক্ষণ পর হৃদয় শান্তিকে বললাে, কি গল্প শুনতে ভাল লাগছে, না লাগছেনা? খারাপ লাগলে আর বলবাে না। -শান্তি বললাে, ভীষণ সুন্দর, এই গল্পটাও খুব সুন্দর লাগছে তােমার ঐ সুন্দর কথা। বল তার পর কি হলাে। তারপর ঐ হিন্দু ছেলে মেয়ের বাড়ির কাজের মেয়েকে দিয়ে প্রস্তাব দিলাে। প্রথমত ভীষণ পছন্দ করল। দুজন দুজনকে। তারপর মেয়েটির যে কি মনে হলাে আল্লাই জানে। সে ভাবছে, আমরা কোথায় আর সেই ছেলে কোথায়। তাও আবার ছেলেটি হিন্দু। মুসলমান হলে এককথা ছিল। এই বলে মেয়েটি আর ছেলেটিকে ভালবাসল না। একসময় মেয়েটি সেই হিন্দু ছেলের এক বন্ধুকে ভালবাসল। সেই ছেলের বন্ধু ছিল মেয়েদের মতই ধনী। তাই মেয়েটি তাকে অনায়াসে ভালবাসল।

-কিছুক্ষণ পর শান্তি হৃদয়কে বললাে, তাহলে তাে মেয়েটি খুব স্বার্থপর।

-হৃদয় বললাে, আগে গল্পটা শেষ করতে দাও তারপর মন্তব্য কর।

-ঠিক আছে শেষ কর।

-ছেলেটি ভীষণ ভাল এবং মেয়েটিকে তার প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসে। কিছুদিন পর ছেলেটি বুক ভরা দুঃখ নিয়ে তার নিজের বাড়ি চলে আসে । তারপর ছেলেটি সেই মেয়েটিকে পাওয়ার জন্য মুসলমান হবে ঠিক করল । তারপর সেই ছেলেটি বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে মুসলমান হলাে । শান্তি বললাে, ছেলেটি কার বাড়ি থাকলো।

-বাড়ি নয় এক মাদ্রাসায় ভর্তি হলাে। সেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে তাকে টাকা দেয় এবং খাওয়া ফ্রী। পরে মেয়েটি যেনে ছেলেটিকে আবার ভালবাসে। তার বন্ধুকে ছেড়ে। কিন্তু এখনাে কারাে বিয়ে হয়নি। তবে আমি চাই তাদের বিয়ে যেন হয় ।

-শান্তি বললাে, আমিও দোয়া করি যেন তাদের বিয়ে হয়।

-হৃদয় বললাে, কেমন লাগলাে এ গল্প?

-খুব সুন্দর উপন্যাসের মত তাদের ভালবাসা।

-অনেক সময় হয়ে গেল যাই। শান্তি হৃদয়কে তার বাড়িতে রেখে শান্তি বাড়ির দিকে রওনা হলাে। হৃদয় বাড়িতে এলে খালাআম্মা বললাে, কি ব্যাপার আজ তুমি কলেজে যাওনি।

-না খালাআম্মা এক জায়গায় গিয়েছিলাম ।

-বাবু কোথায়?

-ও ক্লাস করছে।

-কিছুক্ষণ পর হৃদয় মিসেস শবনম এর ঘরে গিয়ে বললাে, খালাআম্মা আমি এক কাজ করেছি।

-কি কাজ?

-আমি একজনকে ভাল বেসেছি ।

-খালাআম্মা একটু আশ্চর্য হয়ে বললাে, কাকে?

-ঐ একদিন আমাদের বাড়ি এসেছিল সেই মেয়ে ।

-দেখেতাে মনে হলাে অনেক ধনী লােকের মেয়ে।

-বিরাট ধনী ।

-তােমাকে ভালবাসলাে কি মনে করে?

-কি মনে করে আবার, ভালবাসার কোন ধনী গরিব আছে নাকি?

-খালাআম্মা মুচকি হাসতে হাসতে বললাে, একদিন আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসাে। সেদিন ভালভাবে দেখতে পারিনি।

-ঠিক আছে কালকেই আনবাে।

-বাবু ক্লাস থেকে বাড়ি গিয়ে হৃদয়কে বললাে, কিরে কখন আসলি ।

-এই তাে ঘন্টা খানিক আগে।

-হৃদয় খাটে বসে আছে। বাবু সার্ট প্যান্ট খুলতে খুলতে বললাে, কেমন গল্প করা প্রেমিকার সাথে। তুইতাে একদিন বলেছিলি আমি প্রেমালাপ করতে পারি না।

-হৃদয় বললো, পারি নাইতাে।

-তাহলে কি বললি।

-কিছু না এমনি বসে থেকে এসেছি।

-বাবু বললাে, আমি কোন দিন প্রেম করবাে না। মেয়েরা খুব খারাপ জিনিস তারা ছলনাময়ী একটি নারীর মন চিনে ফেলার চাইতে পৃথিবীর দশটি দেশকে মুহূর্তে চিনে ফেলা যায়। কিন্তু একটি নারীর মন চেনা বড় মুশকিল । এদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধরতে সময় লাগে না। ওরা সুখের পায়রা যেখানে সুখ পায় সেখানে চলে যায়।

-হৃদয় বললাে, তুই যাই বল না কেন শান্তি সেরকম মেয়েই না।

-না, না আমি শান্তিকে বলছি না।' আমার কথা শেষ না হতেই শান্তির কথা বলি। কাল কেন। শান্তি যদি ওরকম হতাে তাহলে কি তাের মত ছেলের সাথে প্রেম করত বল?

-আমি বলেছি শতকরা ৯৫ জন মেয়েই খারাপ আর ৫ জন ভাল । সেই ৫ জন মেয়ের মত মেয়ে যদি আমার ভাগ্যে আসে তাহলে প্রেম করবাে তাছাড়া করবাে না।

-হৃদয় বললাে, ভালই বুঝেছিস দেখ পেয়ে যাস কিনা।

-আরে পাবাে পাবাে সময় হলেই পাবাে।

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, সময় লাগে নারে, সময় লাগে না। প্রেম গাছ থেকে পড়া তালের মত কার ঘরে গিয়ে যে কখন পড়ে তা আগে ভাগে বুঝতে পারা যায় না। বুঝলি তাের ঘরে গিয়ে যে কখন পড়বে তুইও বুঝবি -

-বাবু বললাে, তুই ঠিকই বলেছিস। তবে দোয়া করিস যেন ৫ জনের মধ্যে একজনকে পাই ।

-খালাআম্মা ডাকছে চল খাওয়া দাওয়া করি।

পরের দিন হৃদয়কে খালাআম্মা কলেজে যেতে নিষেধ করেছে। কারণ তিনি মার্কেটে যাবেন। তাই বাবু একাই কলেজে গিয়েছে। হৃদয় কলেজে যায়নি বলে শান্তি হৃদয়ের বাড়িতে এসেছে। হৃদয় বললাে, ভালই হলাে, তুমি এসে। কারণ খালাআম্মা তােমাকে দেখতে চেয়েছে। এই বলে হৃদয় খালাআম্মার ঘরে নিয়ে গিয়ে বললাে, খালাআম্মা এইতাে আমার ভালবাসা।

মিসেস শবনম শান্তিকে দেখে মুগ্ধ হয়ে বললাে, খুব সুন্দর হয়েছে। তােমার নাম কি?

-আমার নাম শান্তি -বাবার নাম কি?

-আবার বাবার নাম মোঃ আশরাফ চৌধুরী তােমার বাবার নাম আশরাফ চৌধুরী। শান্তি বললো, জি। তোমার বাবা হৃদয়কে মেনে নিবেন তাে।

-মেনে নিবেন না মানে ১০০ বার নিতে হবে। মেনে নিলে ভাল। তবে সব সময় মনে রেখ হৃদয় যেন কষ্ট না পায়। শান্তি বললো ওকে নী পেলে আমি মরেই যাব ।

-মিসেস শবনম বললাে, আমার সময় নেই তােমরা দু'জন গল্প কর আমি একটু মার্কেটে যাৰ ।

এই বলে মিসেস শবনম বেড়িয়ে গেলেন। এদিকে শান্তি হৃদয়ের ঘরে গিয়ে দেখে হৃদয় তার ঘরে চুপ করে শুয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।

-শান্তি গিয়ে বললাে, এই দুষ্ট আমাকে খালাআম্মার কাছে রেখে তুমি চলে এসেছাে না? আগে বল খালাআম্মাকে তোমার কেমন লাগলাে। খুব ভাল লেগেছে। তার মত মানুষই হয় না। কথা শুনে খুব খুশি হলাম । হাসতে হাসতে বললাে, হৃদয় । শান্তি বললাে বাড়িতে কেউ নেই?

-হৃদয় বললাে, কেউ নেই সবাই বাইরে ।

এই বলে হৃদয় ঘরের দরজা লেগে দিল।

শান্তি ভয়ে একটু রেগে বললাে, কি ব্যাপার দরজা লেগে দিলে কেন?

এমনি তুমি আর আমি গল্প করবাে। তাই

দরজা খুলেই গল্প হবে ।

এই বলে শান্তি দরজা খুলে দিতে গেলেই হৃদয় শান্তির হাত ধরে কাছে বসিয়ে শান্তির মুখের সামনে মুখ নিয়ে গিয়ে বললাে, দরজা খুলে গল্প হবে না বাহিরের আবহাওয়া দেখে ফেলবে। এই বলে হৃদয় শান্তিকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুইয়ে দুই গালে চুমু খেতে লাগলাে। শান্তি ভয়ে ভয়ে বললাে, এই হৃদয় কি করছ, ছাড়াে। হৃদয় আর কোন কথা বলছে না শান্তিকে জড়িয়ে ধরে মুখে, গলায়, গালে চুমুর পর চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিল। শান্তি ও কথা বলতে পারছে না। দু'জন নিস্তব্ধ নেশায় ভরপুর। সত্যিই পুরুষের দেহ বড় বিশ্বাসঘাতক জান্তর, নারী দেহের তাপ তারা সইতে পারে না ঘিয়ের মত গলে যায় । হৃদয় শান্তির জামার উপর দিয়ে বুক চেপে ধরে আদর করতে লাগলাে। শান্তি সইতে পারছে না। দু’জন নেশায় চোখ বন্ধ ।

শান্তি ভীষণ ভয়ে বললাে হৃদয় ছাড়া বিয়ের পর যা ইচ্ছে তাই করাে। আমি কিছু বলবাে না। এখন দুষ্টমি করলে আল্লাহপাক মাফ করবেন না । হৃদয় হঠাৎ চোখ মেলে ভাবলাে তাইতাে এ কাজটি একদম ইসলাম বিরােধী হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়াও হৃদয় নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। হৃদয় বললাে ঠিক আছে তােমাকে বিয়ে করেই তােমার সাথে । তাই বলে এখন উঠছি না। তােমার বুকে মাথা দিয়ে একটু ঘুমাবাে। এই বলে হৃদয় শান্তির বুকে মাথা দিয়ে......। শান্তি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, অনেকক্ষণ পর শান্তি বললাে, উঠো খালাআম্মা আসবে। শান্তি উঠে জামা ঠিক করতে করতে বললাে, রাক্ষসটা জামার কি অবস্থা করেছে। বিয়ে করে যে কি করবে আল্লাই জানে। শান্তি সেজে গুজে হৃদয়ের গালে একটা চুমু দিয়ে বললাে, I love you Reday I love you কাল অবশ্যই কলেজে আসবে। না আসলে কিন্তু আমার আদালতে তােমার বিচার হবে। এই বলে শান্তি চলে গেল ।

-বাবু বাড়ি এসে দেখে হৃদয় বিছানায় শুয়ে ।

-কি বন্ধু শান্তি এসেছিল নাকি?

-জি এসেছিল।

তুই প্রেম কর। আর আমি প্রেমের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। বুঝলি। তুই রাগ করবিনা। কারণ মেয়েকে আমার মােটেও পছন্দ নয়। কিছুক্ষণ পর বাবু বললাে, আজ এক ছেলের কাছে একটা কথা শুনলাম শুনে খুব ভাল লাগলাে। কি কথা?

প্রেম নিয়ে বাড়াবাড়ি করায় এ যুগ বিশ্বাসী নয়। প্রেম আছে আছে প্রেম যায়। যাবে, প্রেম না হয় নাই হবে। তখন প্রেম করলেই হবে। তাহলে বােঝ মেয়েরা এখন কোথায় । এগুলাে কথা বাদ,

-খালাআম্মা কোথায়?

-মার্কেটে গিয়েছে।

-খাওয়া দাওয়া করেছিস?

-না গােসলই করিনি।

-বাবু বললাে জলদি গােসল করে নে। খুব ক্ষিদে পেয়েছে ভাত খাব।

-হৃদয় বললো, ক্ষিদে পেয়েছে তুই খেয়ে নে আমি পরে খাব।

-তােকে ছাড়া কোন দিন খেয়েছি দেখেছিস?

-না।

-তাহলে বাজে কথা বলিস কেন? তাড়াতাড়ি গােসল করে আয় এক সাথে

-দু’জন আপন ভাইয়ের মত খেয়ে দেয়ে চুপ করে দু’জন এক সঙ্গে ঘুমে পড়ল।

চলবে..........

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.