Header Ads

টাকা ধার দিয়ে না পেলে তা জাকাত হিসাবে দেওয়া যাবে কি না।


টাকা ধার দিয়ে না পেলে তা 
জাকাত হিসাবে দেওয়া যাবে কি না।

         অনেক সময় আমরা মানুষকে টাকা পয়সা ধার দেই। টাকা পয়সা ধার দেওয়ার পরে একটা সময়ে দেখা যায় যে যাকে টাকাটা ধার দিলেন অনেক দিন হয়ে গেল সে টাকাটা ফেরত দিচ্ছে না বা সেই টাকা তুলতে পারছেন না। অথবা মনে হচ্ছে অনেক কষ্ট করলে ঐ টাকা পাবেন  কিন্তু তা না করে চাচ্ছেন তাকে যে টাকাটা দিয়েছেন সেই টাকাটা জাকাত থেকে কেটে দিবেন। কারণ সে অভাবি বা অনেক লোক তার কাছ থেকে টাকা পায় সে কারনে সে টাকাটা পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় আপনি ভাবছেন ঐ টাকাটা আর নিবেন না, ওটা জাকাত হিসেবে দিয়ে দিবেন। তাহলে তা জাকাত হিসেবে গন্য হবে কি না ?


উত্তর হলো-  জাকাত আদায় হবে না।

সংখ্যা গড়িষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মতে এটা যায়েজ নাই, যায়েজ হবে না কেন এর কয়েক টা যুক্তি আছে এর মধ্যে একটা যুক্তি হল-
হযরত মুহাম্মাদ(স:) জাকাত সম্মন্ধে বলেছেন- যাকাতের সম্পদটা ধনিদের কাছ থেকে নিতে হবে এবং তা গরিবদেরকে দিতে হবে।

এখানে আপনি দিলেন লোন হিসেবে বা ধার হিসেবে। যখন টাকাটা ধার দিলেন তখন নিয়ত করলেন ধার হিসেবে এখন আপনি টাকাটা তুলতে পারছেন না বলে তা জাকাত হিসেবে দিয়ে দিলেন, তা হবে না। কারণ এখানে নিয়তের বেপার আছে।

দেওয়ার সময় নিয়ত করেছিলেন ধার দেওয়ার, সেটাও একটা উপকার বা ছোয়াবের আশায় তাকে উপকার করেছেন। এর জন্য আপনি সোয়াব পেয়েছেন। পরে আবার তা জাকাত হিসেবে দিচ্ছেন এটা হয় না। একই জিনিস দুইটা কারণে ব্যবহার করা যায় না। এখানে নিয়ত টাই হচ্ছে আসল। একটা আমল দুই বার করা যায় না।

তবে এমন পরিস্থিতিতে একটা উপায় আছে তা হল তাকে জাকাতের টাকা দিয়ে তার ধার পরিশোধ করার। আর সেটা হল এভাবে যে, যেমন ধরুন আপনি তাকে ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন, সে দিতে পারছে না আপনি তা জাকাতের টাকা হিসাবে গন্যও করতে পারছেন না। তাহলে পুরাই আপনার লোকশান হচ্ছে তাহলে এক কাজ করুন, ঐ ৫০ হাজার বা ১ লাখ জাকাতের টাকা আপনি তোকে দিন, দিয়ে বলেন এই যে তোমাকে আমি দিলাম জাকাতের টাকা তোমার দেনা পরিশোধের জন্য, টাকা পাওয়ার পর সে এখন সেই টাকার মালিক হয়ে গেছে। এখন তাকে বলুন তুমি আমাকে আমার পাওনা টাকাটা ফেরত দাও। তাহলে আপনার টাকা আপনার কাছেই থাকলো সে যেটা নিলো সেটা জাকাত হয়ে গেল।

এভাবে আপনি জাকাত হিসেবে গন্য করতে পারেন। তাছাড়া হবে না।
ইসলামে আলোকে এই  তথ্যটি যদি আপনার ভাল লেগে থাকে তাহলে সবার অবগতির জন্য শেয়ার করতে ভুলবেন না প্লিজ। যে কোন অভিমত, বা সমালোচনা করার থাকলে  কমেন্ট করে জানাবেন অবশ্যই। ধন্যবাদ সবাইকে ।

রচনা– এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.