বাংলাদেশে ২০২৬ পাসপোর্ট আবেদন: নতুন নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজ, সময় ও ধাপে ধাপে গাইড।
পরিচয়: কেন নতুন নিয়ম?
গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি-উন্নয়ন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় এবং নাগরিক সেবার গতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তায় বাংলাদেশেও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পুরনো “হাতলিখিত / ম্যানুয়াল পাসপোর্ট” থেকে এখন পুরো রোগ-বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ ও মেশিন-রিডেবল পাসপোর্ট — অর্থাৎ Department of Immigration & Passports (DIP) কর্তৃক ই-পাসপোর্ট বা MRP পদ্ধতি গৃহীত হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া ঘরে বসেই অনলাইন করা যায়, কাগজপত্রের শর্ত বদলায়, বায়োমেট্রিক তথ্য রাখা হয় পাসপোর্টে, এবং পুরনো তুলনায় পাসপোর্ট পাওয়া এখন দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত।
এই ব্লগে ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম-রূপ, কী করতে হবে, কোন কাগজ লাগবে, কত সময় লাগবে, কীভাবে আবেদন করবেন — সবই ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আরো পড়ুন- স্মার্ট হোম কি? ঘরকে স্মার্ট করার সম্পূর্ণ গাইড।
১. ২০২৬ সালের পাসপোর্ট: কোন ধরনের পাসপোর্ট পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে বর্তমানে নিচের ধরণের পাসপোর্ট দেওয়া হয় —
- সাধারণ (Ordinary) পাসপোর্ট — সবাই যারা বাংলাদেশি নাগরিক।
- অফিসিয়াল (Official) পাসপোর্ট — সরকারিভুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য।
- কূটনৈতিক (Diplomatic) পাসপোর্ট — কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিতদের জন্য।
আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ২০২০ সালের পর থেকে নতুন পাসপোর্ট (Ordinary সহ অন্যান্য) সবই মেশিন-রিডেবল এবং বায়োমেট্রিক ভিত্তিক।
পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর বা ১০ বছর। ২০২৬-এ ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টও জনপ্রিয়।
২. নতুন নিয়ম: কী কী বদলেছে (২০২৬ অনুযায়ী)
✅ অনলাইনে আবেদন – এখন পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল
- আবেদন করতে হবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে: epassport.gov.bd — “Apply Online” নির্বাচন করেই আবেদন শুরু করতে পারেন।
- আবেদন ফরম পূরণ করে সাবমিট করার পর একটি প্রিন্ট কপি (printout) সংরক্ষণ করতে হবে।
- এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হয়।
এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কারণে নাগরিকদের আর হাতলিখিত ফরম বা অফিসের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না, টাকা-পয়সা খরচ কম হয়, এবং আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
✅ পুলিশ-ভেরিফিকেশন বাতিল হয়েছে (অনেক ক্ষেত্রে)
একটি বড় পরিবর্তন: ২০২৫ সালের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন পাসপোর্ট আবেদনের জন্য সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন আর বাধ্যতামূলক নয়।
এর মানে: আবেদনকারীরা কেবল অনলাইনে আবেদন ও তথ্য দাখিল করলেই, অতিরিক্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা বাড়তি যাচাই ছাড়াই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই পরিবর্তন বিশেষ করে প্রবাসী, শিক্ষার্থী বা এমন ব্যক্তি যারা দ্রুত পাসপোর্ট পেতে চান — তাদের জন্য বড় সুবিধা।
✅ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যাচাই নিয়ম পরিবর্তন
নতুন নিয়মে আবেদন করতে হলে নিচের কাগজপত্র লাগবে: ইপাসপোর্ট
অনলাইনে আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি (bar-code সহ)
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — মূল ও ফটোকপি
- যদি NID না থাকে: অনলাইনে যাচাইযুক্ত ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন সনদ (Birth Certificate), ১৭ ডিজিট সহ।
- পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং তার ফটোকপি (অনুরোধে)
- শিশু হলে (৬ বছরের নিচে) — অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা–মাতার NID/জন্ম–মৃত্যু সনদ ইত্যাদি।
- এছাড়া, আবেদনকারীর বয়স, বর্তমান ঠিকানা, পিতা–মাতার তথ্য ইত্যাদি সঠিকভাবে ফরমে দিতে হবে।
✅ পাসপোর্ট ফি ও মেয়াদ — আবেদনকারীদের জন্য বিকল্প
নতুন পাসপোর্ট বা রিইস্যুর সময় ফি এবং মেয়াদ সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তন বা স্পষ্ট করা হয়েছে। মূল বিষয়গুলো:
- ৫ বছরের জন্য এবং ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট পাওয়া যায়। (SK Digi World)
- আবেদনকারীরা সাধারণ, জরুরি বা “অতি-জরুরি” ডেলিভারি টাইপ বেছে নিতে পারেন; যা পাসপোর্ট পাওয়া সময়কে প্রভাবিত করে।
- ফি সাধারণ পাসপোর্টের জন্য, চাহিদা ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন হতে পারে।
৩. ২০২৫ সালের জন্য পাসপোর্ট আবেদন ধাপে ধাপে: কি করণীয়
নিচে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হলো — নতুন আবেদনকারী হিসেবে যদি আপনি পাসপোর্ট করতে চান, তাহলে এই গাইড অনুসরণ করুন 👇
ধাপ ১: পূর্বরূপ যাচাই ও প্রস্তুতি
- নিশ্চিত হোন: আপনি বাংলাদেশের নাগরিক।
- আপনার NID (জাতীয় পরিচয়পত্র) আপ-টু-ডেট কিনা যাচাই করুন।
- যদি NID না থাকেন বা শিশু হয়, তাহলে birth certificate (ইংরেজি) যাচাইযোগ্য কিনা দেখুন।
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো (NID, জন্ম সনদ, পুরনো পাসপোর্ট — যদি থাকে) প্রস্তুত রাখুন।
ধাপ ২: অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ
- ভিজিট করুন: epassport.gov.bd এবং “Apply Online” সিলেক্ট করুন।
- আবেদন ফরমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ঠিকানা, পিতা–মাতা, যোগাযোগ নম্বর ইত্যাদি) সঠিকভাবে দিন।
- প্রয়োজনে যেকোনো অতিরিক্ত তথ্য (যেমন পুরনো পাসপোর্ট নম্বর) দিন।
- ফরম সাবমিট করার পর প্রিন্ট করুন – একটি বিবরণ পত্র (application summary) পাবেন।
ধাপ ৩: প্রিন্ট আউট ও কাগজপত্র প্রস্তুতি
- প্রিন্ট করা ফরম (summary) সঙ্গে রাখুন।
- আপনার NID (মূল + ফটোকপি) বা যাচাইযোগ্য জন্ম সনদ (যদি NID না থাকে) প্রস্তুত করুন।
- পুরনো পাসপোর্ট থাকলে সেটাও সঙ্গে রাখুন (মূল + ফটোকপি)।
- যদি আবেদনকারী শিশু হয়, তাহলে পিতা–মাতার NID/জন্ম–মৃত্যু সনদ ও অনলাইন জন্ম সনদ প্রস্তুত।
ধাপ ৪: ফি পরিশোধ ও পেমেন্ট
- পাসপোর্ট ফি জমা দিতে হবে — ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে (যেমন: সোনালী, AB Bank, Premier Bank, ইত্যাদি) বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে।
- ফি পরিশোধের রশিদ (payment receipt) সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৫: বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট & ডেটা এন্ট্রি
- Online আবেদন শেষে আপনাকে DIP এর অফিস থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সেখানে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি, প্রয়োজনীয় তথ্য) দাখিল করতে হবে।
- শিশুদের ক্ষেত্রে, বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। যেমন ৬ বছরের নিচে হলে ভিন্ন পদ্ধতি।
ধাপ ৬: পাসপোর্ট অনুমোদন এবং ডেলিভারি
- সব তথ্য ঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদন হয়।
- আপনি পাসপোর্ট তিন ধরণের ডেলিভারি টাইপ থেকে বেছে নিতে পারেন: সাধারণ, জরুরি, অতি-জরুরি (যদি প্রযোজ্য হয়)।
- অনুমোদনের পর পাসপোর্ট কিট আপনার হাতে পৌঁছাবে।
ধাপ ৭: পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর করণীয়
- পাসপোর্টে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, পিতা–মাতা, ছবি — সব কিছু সঠিক আছে কিনা চেক করুন।
- পাসপোর্টটি সাবধানে রাখুন। চিপ যেহেতু বায়োমেট্রিক, তাই জল, তাপ বা ভৌত ক্ষতি থেকে দূরে রাখুন।
- যদি ভ্রমণ করতে চান, ভ্রমণের আগে ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা যাচাই করুন।
৪. কেন এখন পাসপোর্ট করা সহজ — নতুন নিয়মের সুবিধা
নিচে নতুন নিয়মের কিছু বড় সুবিধার কথা নীচে দেওয়া হলো:
- পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল — পুলিশের জটিলতা ও সময় খরচ কমেছে। আবেদন দ্রুত অনুমোদন পাচ্ছে।
- অনলাইন আবেদন — ঘরে বসেই আবেদন, অফিসে গিয়ে শুধুই বায়োমেট্রিক। দালাল বা অফিস-ভয় আর নেই।
- দ্রুত প্রক্রিয়া ও সহজ রূপ — পুরনো জটিলতা নেই, কাগজপত্র কম, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি নিরাপদ।
- নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাসপোর্ট — মেশিন-রিডেবল + বায়োমেট্রিক, যা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।
- দীর্ঘ মেয়াদি পাসপোর্ট (৫/১০ বছর) — কারবার কম, সময় বাঁচে, সুবিধা বেশি।
এই কারণে, ২০২৬ সালের পাসপোর্ট প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ, স্বচ্ছ এবং নাগরিক বান্ধব।
৫. সাধারণ মানুষ থেকে প্রবাসী — কার জন্য উপযোগী এই নতুন নিয়ম
- যারা প্রথমবার পাসপোর্ট করতে চান — ছাত্র/ছাত্রী, নতুন চাকরিজীবি, পর্যটক বা বিদেশ যাত্রাপ্রার্থী।
- যারা পুরনো পাসপোর্ট রিনিউ বা রিপ্লেস করতে চান।
- যারা এখন বিদেশে থাকেন — প্রবাসী, বিদেশি কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণ।
- যারা দ্রুত পাসপোর্ট পেতে চান — জরুরি ভ্রমণ, কাজ, শিক্ষাজাত কারণে।
- যারা আগে দালাল-ভয় বা সময়-অস্বস্তি অনুভব করতেন — তাদের জন্য এটি সুখবর।
৬. সাধারণ প্রবলেম এবং টিপস: আবেদন করার সময় কি ভুল করবেন না
যদি আপনি পাসপোর্ট আবেদন করেন, নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন — যাতে আবেদন “অ্যাটর্কট” বা “বাতিল” না হয়।
- আবেদন ফরমে সব তথ্য ১০০% সঠিক দিন — নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, পিতা–মাতা তথ্য মিল থাকতে হবে আপনার NID/জন্ম সনদ ও ভবিষ্যত পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে।
- NID বা যাচাইযোগ্য জন্ম সনদ থাকলে নিশ্চিত হোন; ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি এবং payment receipt — সংরক্ষণ করুন।
- বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্টে সময়মতো হাজির হোন। যদি না যান, আবেদন বাতিল হতে পারে।
- শিশু, অভিভাবক হিসেবে আবেদন বা বিশেষ ক্ষেত্রে হলে, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ডকুমেন্ট সঠিকভাবে সংগ্রহ করুন।
- আবেদন করার পরে ধৈর্য রাখুন — প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে, তবে পুরনো তুলনায় এখন অনেক দ্রুত।
৭. প্রতিক্রিয়া ও মানুষ কী বলছেন — বাস্তব অভিজ্ঞতা (২০২৬)
নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে অনেকে জানিয়েছেন যে:
- “অনলাইনে আবেদনের পর আর দালাল-ভয় নেই, অফিসে গিয়ে শুধু বায়োমেট্রিক দিলাম, কাজ হয়ে গেল”।
- “পুলিশ ভেরিফিকেশন নেই, সময় কম লাগলো — খুব দ্রুত পাসপোর্ট পেলাম”।
- “NID-ই ভেরিভায়েড ছিল, তাই শুধু অনলাইনে আবেদন করেই সব হয়ে গেছে”।
- “১০ বছর মেয়াদে পাসপোর্ট নেওয়ায় বারবার ভাবতে নেই — বড় রিলিফ”।
অবশ্যই, কিছু ক্ষেত্রে দেরি বা ভুল তথ্যের কারণে সমস্যা হয়েছে — কিন্তু পুরনো সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে জটিলতা ও ঝামেলা অনেক কাজ কমেছে।
নিচে বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার নতুন নিয়ম (২০২৬) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত, সহজ ভাষায় উত্তর দেওয়া হলো —
অবশ্যই পড়ুন- বাংলাদেশের সেরা বাজেট স্মার্টফোন — ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ গাইড
📌 FAQ: বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার নতুন নিয়ম (২০২৫)
১. নতুন নিয়মে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
না, ২০২৫ সালের নতুন
নির্দেশনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয় না।
NID/জন্ম নিবন্ধন তথ্য অনলাইনে যাচাই
হয়ে গেলে আবেদন সরাসরি
অনুমোদন পায়।
২. অনলাইনে আবেদন করার লিঙ্ক কোনটি?
সরকারি ওয়েবসাইট:
https://www.epassport.gov.bd/
এখানে “Apply Online” অপশন থেকে আবেদন
শুরু করতে পারবেন।
৩. পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজ লাগে?
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য:
· NID (মূল + ফটোকপি)
· অনলাইন আবেদন ফরম প্রিন্ট কপি
· পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে)
শিশুদের জন্য:
· জন্ম নিবন্ধন (ইংরেজি, যাচাইযোগ্য)
· পিতা–মাতার NID
· অনলাইন আবেদন ফরম
৪. ৫ বছর ও ১০ বছরের পাসপোর্ট—দুটোই কি পাওয়া যায়?
হ্যাঁ।
৫ বছর বা ১০ বছর—দুটো মেয়াদেই পাসপোর্ট
পাওয়া যায়।
৫. জরুরি পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?
সাধারণত —
· সাধারণ: ২১–৩০ দিন
· জরুরি: ৫–৭ দিন
· অতি জরুরি: ২–৩ দিন
(অফিসভেদে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।)
৬. পাসপোর্ট আবেদন ফি কত?
ফি নির্ভর করে—
· পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর/১০ বছর)
· পাতার সংখ্যা (৪৮/৬৪)
· ডেলিভারি টাইপ (সাধারণ/জরুরি/অতি জরুরি)
চাইলে আমি আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালনাগাদ ফি চার্টও তৈরি করে দিতে পারি।
৭. পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি একই কাগজ লাগে?
হ্যাঁ, প্রায় একই —
· পুরনো পাসপোর্ট
· অনলাইন আবেদন ফরম
· NID
পুলিশ ভেরিফিকেশন নেই।
৮. জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে কি পাসপোর্ট হবে?
না।
জন্ম তারিখ, নাম বা তথ্য
ভিন্ন হলে পাসপোর্ট আবেদন
‘হোল্ড’ বা বাতিল হতে
পারে।
আগে জন্ম নিবন্ধন/NID তথ্য
ঠিক করে নিন।
৯. পাসপোর্ট করতে কি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে?
হ্যাঁ।
বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ,
স্বাক্ষর) দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট দিনে
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়।
১০. আমি বিদেশে থাকি—কিভাবে পাসপোর্ট করবো?
আপনার নিকটবর্তী বাংলাদেশ দূতাবাসে অনলাইন আবেদন করে বায়োমেট্রিক জমা দিতে হবে।
১১. পাসপোর্ট হারালে কী করণীয়?
· নিকটবর্তী থানায় GD করতে হবে
· অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ
· GD কপি + NID জমা দিতে হবে
· জরুরি হলে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া যায়
১২. কোন নাম ব্যবহার করব — NID এর নাম, নাকি স্কুল সার্টিফিকেটের?
NID-এর
নামই চূড়ান্ত।
NID–এর নাম, জন্ম তারিখ
ও পরিচয় অনুযায়ী পাসপোর্ট করা হয়।
১৩. পিতা–মাতা মারা গেলে শিশুর পাসপোর্ট হবে?
হ্যাঁ।
তবে অভিভাবক/গার্ডিয়ানের কাগজপত্র লাগবে (NID/জন্মনিবন্ধন)।
১৪. পাসপোর্টে ভুল থাকলে কিভাবে ঠিক করবো?
· “Correction Application” দিয়ে অনলাইনে আবেদন করুন
· ভুল অংশের প্রমাণপত্র (NID/জন্ম সনদ/সার্টিফিকেট) জমা দিন
১৫. পাসপোর্ট নম্বর পরিবর্তন হয় কি?”
হ্যাঁ।
নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করলে আগের নম্বর
পরিবর্তিত হবে।
উপসংহার: ২০২৫-এর নতুন পাসপোর্ট গাইডলাইন — আপনার জন্য কি?
যদি আপনি ২০২৫-এ পাসপোর্ট করতে চান — তাহলে বলা যায়, এটা হতে পারে সবচেয়ে সহজ, দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত পাসপোর্ট আবেদন যাত্রা।
অনলাইনে আবেদন, পুলিশের জটিলতা বাদ, কম কাগজপত্র, বায়োমেট্রিক সুরক্ষা, ৫ বা ১০ বছরের মেয়াদসহ — সব মিলিয়ে নতুন নিয়ম নাগরিক বান্ধব।
আপনি শুধু (১) NID বা যাচাইযোগ্য জন্ম সনদ, (২) আবেদন ফরম, (৩) ফি পেমেন্ট, (৪) বায়োমেট্রিক, এবং (৫) ধৈর্য — এগুলোর দিকে নজর রাখুন।
যদি আপনার পাসপোর্ট করতে ইচ্ছা হয় — এখনই শুরু করুন!


কোন মন্তব্য নেই