Header Ads

মিসকল=কলব্যাক=কি মজা !

 
মিসকল = কলব্যাক = কি মজা


         মােহাম্মাদ আলী প্রিয়ার বাবা । প্রিয়া এবার এস ,এস , সি পাস করেছে । এখন সে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী । এখন তার দরকার মােবাইল , এখনকার যুগে যার হাতে মােবাইল নেই সে হল গেঁয়াে ধুর । হাতে মােবাইল নেই । এই কথা ভাবাই যায়না । মােহাম্মাদ আলীও ভাবে মেয়ে বড় হয়েছে । মােবাইল তার প্রয়ােজন । এখন যে সমস্ত বাবারা বিবেকবান , একমাত্র তারাই মেয়েকে মােবাইল কিনে দেয় । মােহাম্মাদ আলীও বিবেকনের মানুষের মধ্যে একজন । মেয়েকে সংগে করে মার্কেটে নিয়ে গিয়ে দামী একটা মােবাইল সেট কিনে দেয় এবং পরের দিন অফিসে গিয়ে কলিকদের সাথে খুব খুশি খুশি মেজাজে বলেন- রহিম সাহেব গতকাল মেয়েকে একটা দামী মােবাইল কিনে দিলাম । প্রিয়া মােবাইল পেয়ে ভিষন খুশি।প্রথম প্রথম মােবাইলে কথা না বললে ভাল লাগেনা । যেই কল করুক তার সাথেই কথা । বলতে ইচ্ছে করে । কথা বলতে ভাল লাগে । বারবার মােবহিলটা দেখতে ইচ্ছে করে , দুই একজনকে নাম্বারটা জানাতে ইচ্ছে করে ।। 
 
 
 
          পরের দিন প্রিয়া কলেজে গিয়ে তার বান্ধবীদের মােবাইল দেখায় এবং খুব ভাবে থাকে । প্রিয়া তার বান্ধবীদের বলে তােরা মােবাইল কিনিসনা । কেন ? আমরা সবাই সবার সাথে বাসায় বসে বসে কথা বলবাে কত ভাল লাগবে । বান্ধবীরা বলে বাবাকে বললে বলে তুই মােবাইল নিয়ে কি করবি তেমনতাে প্রয়ােজন দেখছিনা তাের । প্রিয়া বলে আসলে তােদের বাবারা মডার্ন যুগ বলতে কিছু বুঝেনা, এখনকার যুগে মােবাইল নেই এটা ভাবাই যায় না । তােদের বাবারা যেমন আগের মানুষ তােদেরকেউ তেমন গেঁয়াে । করে রেখেছে । তাই প্রিয়া ছেলে বন্ধুদেরকে নাম্বার দেয় । বন্ধুরা অবশ্য তার প্রতিবেশী। 
 
           প্রিয়ার চুলগুলাে লাল , সব সময় ফ্যাশন করে । স্টাইল করে হাটে , পিছন থেকে তার হাটা দেখলে মনে হয় উপর করা বাটির মত নিতম্বগুলাে নাচিয়ে নাচিয়ে হাটছে এবং বিশাল বক্ষ সম্পদের অধিকারী , দেখতে বেশ আবেদনময়ী মনে হয় ।। 
 
          প্রিয়া তার সব বন্ধুদের সাথেই কথা বলে মােবাইলে । বাপ্পি , সাগর , তুষার , হুমায়ুন এবং মেহেদী সবাই তার ঘনিষ্ট বন্ধু কিন্তু পরে আর বন্ধু থাকেনা । বন্ধুরা কেউ তাকে বন্ধু মনে করেনা , প্রিয়াকে নিয়ে সবাই তাদের - মনে এই সুন্দর ছবি অাঁকে । সবাইকে প্রিয় কথা বলার একটা নির্দিষ্ট সময় দিয়েছে , কে কখন কথা বলবে । প্রিয়া তাদের বলেছে , যখন যখন মিসকল দিব তখন তখন কলব্যাক করবে । কেউ কারাে না জানেন , সবাই মনে করে শুধু আমার সাথেই প্রেম করে প্রিয় । প্রিয়ারে খুব ভাল লাগে সবার সাথে মােবাইলে কথা বলতে । সবাই প্রিয়াকে I love you বলে এবং প্রিয়ও তাদের কে বলে । সবার সাথেই ৩০ মিনিট ১ ঘন্টা করে । কথা বলে , এভাবেই চলে প্রতি দিন , রাত ৩ টা পর্যন্ত মােবাইলের সিম তার ৮ থেকে ১০ টি । 
 
          প্রিয়া যাকেই মিসকল দেয় সেই কলব্যাক করে ' ইস্ কি মজা প্রিয়ার । খুব ভাল লাগে প্রিয়ার । দিনে ৫/৬ ঘন্টা কথা হয় , কি ১ টাকাও খরচ হয়না । বরংচ একেক শ্রেমিক একেক সময় টাকা পাঠিয়ে দেয় প্রিয়াকে । 
 
          ভালই আনন্দে দিন কাটছে প্রিয়ার । এক সংগে পাঁচটি প্রেমিক ।। মােবাইল না থাকলে তাে এভাবে প্রেম করা যেতাে না । মনে মনে প্রিয়া তার বাবাকে ধন্যবাদ জানায় মােবাইল কিনে দেওয়ার জন্য । 
 
          পার্কে দেখা করে প্রিয়া একেক দিন একেক প্রেমিকের সাথে । খাওয়াও হয় দারুন । সব সময় প্রিয়ার মুখে একটা করে আইসক্রিম থাকে । আদরও করতাে তারা , পার্কে যেভাবে আদর করা যায় । প্রিয়াকেউ ভলাে । লাগে , একেক প্রেমিক একক ধরনের আদর করে । বহু পুরুষের আদর কার না ভাল লাগে । যদি একটু চরিত্রটাকে নিচে নামনাে যায় । 
 
          ঈদের দিন বাপ্পি , সাগর , তুষার , হুমায়ুন ও মেহেদী সবাই এক সাথে বসে গল্প করছে । গল্পে গল্পে প্রিয়ার কথা বেরিয়ে আসে । সবাই বলে প্রিয়া আমার প্রেমিকা । সবার মােবাইলে প্রিয়ার নাম্বার সেভ করা আছে জান নামে অর্থাৎ সবার জান প্রিয়া । বাপ্পি বলে আমি প্রতি দিন প্রিয়ার সাথে কথা বলি ১০০ টাকার । সবাই বলে আমিও , আমিও । তুষার বলে আমার সাথে । সে পার্কে দেখা করে , সবাই বলে আমার সাথেও করে । সবার মাথা ঘুরে যায় , ভেঙ্গে যায় সবার মন । ভিষণ কষ্ট পায় তারা । ক্ষেপে যায় প্রিয়ার উপর , ঘৃনায় থুতু ফেলে সবায় বলে এর একটা বদলা নিবই আমরা ।। অনেক টাকা নষ্ট করেছে আমাদের । 
 
          ঈদের তিন দিন পর প্রিয়া রাত ৯ টায় খালার বাসা থেকে আসার সময় সবাই উৎ পেতে থাকে প্রিয়াকে ধরার জন্য । প্রিয়া একটু অন্ধকারে আসলে সবাই প্রিয়াকে ধরে মুখ বেধে এক অসম্পূর্ন বিল্ডিংএর তিন তালায় । নিয়ে গিয়ে রাত ভর প্রিয়াকে ধর্ষন করে । 
 
          শেষ রাতে যাবার সময় ১ লিটার RC র বােতল প্রিয়ার গুপ্তাঙ্গের  ভিতর ঢুকে দিয়ে তারা চলে যায়।

রচনা- এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.