লাভ (উপন্যাস) পর্ব- ৩
লাভ
এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন
উপন্যাস (পর্ব-৩)
একমাস হয়ে গেল জাহিদ হৃদয়ের কাছে নিয়মিত পড়ছে। আজ জাহিদ বসে আছে পড়ার
জন্য স্যার আসছে না। জাহিদ মনে মনে ভাবছে কি ব্যাপার আজ স্যার আসছে না কেন?
কোন অসুবিধা হলাে না তাে? মনে হয় কোথাও গিয়েছে। জাহিদ স্যারকে খুব
ভালবাসে । স্যার একদিন পড়াতে না আসলে জাহিদের মােটেও ভাল লাগে না।
পরের
দিন সকাল ৮টায় স্যার এসেছে জাহিদকে পড়াতে-জাহিদ বললাে, স্যার আপনি এখন
কেন?
-স্যার বললাে, কাল এক জায়গায় গিয়েছিলাম। তাই আসতে পারিনি। আজ
বিকালেও আসতে পারবাে না তাই এখন এলাম । তুমি যদি পড়তে চাও তাহলে পড়াবাে
আর যদি না হয় আজ থাক।
-জাহিদ বললাে, আমি সারাদিন বসে থাকি স্কুল সময়
ছাড়া যখন পড়াবেন তখনই পড়বাে। আমার কোন অসুবিধা নেই।
-স্যার বললাে, ঠিক
আছে চলাে পড়াই।
আজ হৃদয়কে ভাল লাগছে না কিন্তু জাহিদকে বুঝতে দিল না তাকে
ভালভাবে পড়াচ্ছে। জাহিদকে পড়িয়ে হৃদয় বাড়ি থেকে বের হতেই দরজার সামনে
একটা আংটি দেখে হাতে নিয়ে বুঝতে পারলাে এটা হিরার আংটি। হৃদয় ভাবলাে এটা
অবশ্যই জাহিদের বাবার । আর কিছু না ভেবে হৃদয় সােজা জাহিদের বাবার কাছে
গেলাে। এদিকে জাহিদের বাবা আংটি খুজে না পেয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে। ঠিক এমন
সময় হৃদয় জাহিদের বাবার ঘরে প্রবেশ করতেই বললেন, তুমি এ ঘরে এসেছাে কেন?
-হৃদয় আংটিটি পকেট থেকে বের করে বললাে, দেখুনতাে এই হিরার আংটি আপনার কি
না?
-জাহিদের বাবা আংটি দেখে খুশিতে বড় এক নিশ্বাস নিয়ে বললাে, এইতাে
আমার আংটি এটা তুমি কোথায় পেলে?
-হৃদয় বললাে, আপনাদের দরজার সামনে পড়ে
ছিল।
-জাহিদের বাবা বললেন, এই আংটি মূল্য কত যান?
-হৃদয় বললাে, জানিনা তবে
এইটুকু জানি যে এই আংটি অনেক মূল্যবান। -জাহিদের বাবা বললেন, এই আংটির
মূল্য ৫০ হাজার টাকা। আমার মেয়ের জন্য এনেছি। হৃদয় তুমি এত মহত্ব ছেলে
আমি আগে জানতাম না । হৃদয় তুমি যদি কিছু না মনে কর তাহলে তােমাকে একটা কথা
বলবাে শুনবে?
-হৃদয় বললাে,
অবশ্যই বলবেন, আপনার প্রতিটি কথা শােনার চেষ্টা করবাে। জাহিদের বাবা বললেন,
তোমাকে আমাদের বাড়িতে রাখবাে তুমি আমাদের ছেলের মতাে থাকবে।
-হৃদয় তাদের
কথায় রাজি হলাে, জাহিদের বাবা বললেন, চলো তােমার ঘর দেখে দেই। এই বলে- এক
ঘরে নিয়ে গিয়ে বললাে এটা তোমার ঘর ।
-হৃদয় মেসে এসে বাবুকে বললাে,
বন্ধু তােকে একটা কথা বলবাে, মন খারাপ করবি নাতাে?
-বাবু হাসতে হাসতে
বললাে, তাের কথায় কোনদিনও মন খারাপ করিনি আজও করবােনা, কি বলবি বল ।
-হৃদয় বললাে, আমি যেখানে প্রাইভেট পড়াই সেই বাড়িতে আমি কাল থেকে থাকবাে।
কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাবুর মুখ শুকিয়ে গেলাে, হৃদয়কে বুঝতে দিলেও
হৃদয় বুঝতে পেরেছে যে বাবু মন খারাপ করেছে।
হৃদয় কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে
আবার বললাে, আমি জানি তুই মন খারাপ করবি । বাবু বললাে, না, না মন খারাপ
করবো কেন তুই ওখানেই থাক, তুই ওখানে গেলে তাের অনেক সুবিধা হবে। তাছাড়াও
আমাদের প্রতিদিন তাে কলেজে দেখা হবেই । হৃদয় বললাে, টিক আছে যাবাে, তবে
তুই যদি আমার উপর রাগ করিস তাহলে যাবাে না।
বাবু বললাে, আমি একটুও রাগ
করবােনা, তাের সুবিধাটাই আমার সুবিধা। তাের কষ্ট না হােক এটাই আমি চাই ।
“আজ থেকে হৃদয় জাহিদের পরিবারের একজন সদস্য। হৃদয় গরীব, তাই সে সব সময়
নিজেকে ছােট মনে করে সাধারণভাবে থাকে । আগে প্রতি দিন মাত্র এক ঘন্টা করে
জাহিদকে পড়াতাে এখন প্রায় সব সময় পড়ায় । জাহিদ সাময়িক পরীক্ষায় ১ম
স্থান অধিকার করেছে। জাহিদের বাবা, মা খুব খুশি। “হৃদয় তাদের সঙ্গে এক
সাথে বসে ডানিং টেবিলে বসে খেতে চায় না কিন্তু জাহিদের বাবা বলেছে
প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে খাবে, তুমি আমাদের পরিবারের একজন । তাই সে এক সঙ্গে
খায়।”
আজ তারা এক সঙ্গে খাচ্ছে। হৃদয় কোন কথা বলছে না শুধু ভাতের দিকে
চেয়ে মনােযােগ সহকারে ভাত খাচ্ছে।
-জাহিদের বাবা বললাে, আজ হৃদয়ের জন্য
জাহিদের এত ভাল রেজাল্ট
-জাহিদের মা বললাে, হৃদয় এসে আমাদের ভালই হয়েছে।
সে প্রতিদিন জাহিদকে কোরান পড়া শিখায় ।
জাহিদের
বাবা বললেন, তাই নাকি? খুব ভাল কথা।
জাহিদের বােন চায়না হৃদয়ের ঠিক
বিপরীত পার্শ্বে বসে খাচ্ছে। সে হৃদয়কে দেখে খুব অহংকার করে। চায়না মনে
করে আমি এত সুন্দরী, আমাকে দেখে সে পাগল হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে কথা বলার
জন্য খুৰ চেষ্টা করবে। আমি তাকে পাত্তাই দিব না।
কিন্তু হৃদয় সম্পূর্ণ
বিপরীত, হৃদয় একদিনও তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেনি। চায়নার দিকে ঠিকমত
তাকায় না। চায়না খুব সুন্দরী, টানা টানা চোখ, প্রথমে দেখে হৃদয়েরও খুব
পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু তার মা তা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। তাই সে চায়নাকে
তার প্রেমের অধ্যায় থেকে সব সময় দূরে রেখেছে। তাকে নিয়ে এক বিন্দু
পরিমাণ সময়ের জন্যও স্বপ্ন দেখেনি।
পাঁচ, ছয় মাস হয়ে যায় তবুও হৃদয়
চায়নার সঙ্গে কথা বলে না। হৃদয়কে দেখে যে কোন মেয়েই পছন্দ করবে ।
চায়নাও পছন্দ করছে কিন্তু অহংকার তাকে বাধা দেয়। চায়না শুধু হৃদয়ের
বলার অপেক্ষায় আছে। হৃদয় চায়নাকে ভালবাসার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে মেনে
নিবে। কিন্তু হৃদয় বলছে না। বলবেও না।
আজ রাতে চায়নার চোখে ঘুম আসছে না। শুধু
হৃদয়ের কথা তার মাথায় ঘাের প্যাচ খাচ্ছে। সে ভাবছে হৃদয় সত্যিই একজন
অসাধারণ ছেলে। কোন দিন সে আমার দিকে ভালভাবে তাকায়নি। এই সমস্ত কথা ভাবতে
ভাবতে চায়না আর থাকতে পারল না। চায়না ঠিক করেছে তার আশায় বসে থাকলে হবে
না। কালই তাকে ভালবাসার প্রস্তাব দিবাে। ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে উঠে পড়ার
টেবিলে বসে হৃদয়ের কাছে প্রেম পত্র লিখতে বসলাে। কি লিখবে কিছুই মনে আসে
না। শুধু ভয় করছে যদি প্রেম পত্র পেয়ে রাগে আমার বাবাকে বলে দেয় তাহলে!
আবার মনে হয় হৃদয় ও রকম ছেলেই নয়। এসব ভাবতে ভাবতে রাত ২টা বেজে গেল
চিঠি লিখা শেষ হয়নি। সব শেষে চায়না ভাবল ভালবাসতে হলে ভয় ও লজ্জাকে লাথি
মারতে হবে। তারপর চায়না বুকে সাহস নিয়ে সুন্দর করে একটি চিঠি লিখে
তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ল। কাল ভােরে উঠতে হবে হৃদয়কে চিঠি দেওয়ার জন্য।
হৃদয় প্রতিদিন ভােরে উঠে নামাজ পড়ে, পড়তে বসে কারণ সকালের পড়া খুব মনে
থাকে। সকাল বেলা চায়না ট্রেতে চা ও চা কাপের পাশে চিঠিটি নিয়ে গেলাে।
হৃদয় দেখে অবাক! সে ভাবতেই পারেনি যে অহংকারি চায়না তার জন্য চা নিয়ে
আসবে।
হৃদয়
নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে মুচকি হাসতে হাসতে বললাে আপনি হঠাৎ চা নিয়ে
কারণ? বুয়ার নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে। আর না হয় বাড়িতে গিয়েছে। বুয়া
নাই আপনি কষ্ট করে চা আনতে গেলেন কেন? একদিন চা না খেলে আমার কোন অসুবিধা
হবে না। আমিতাে আগে চা খেতাম না আপনাদের বাড়িতে এসে আপনাদের সঙ্গে এডজাষ্ট
হয়ে থাকার জন্য চা খেতে শুরু করেছি।
চায়না লজ্জায় কথা না বলে ট্রে
হৃদয়ের সামনের টেবিলের উপর রেখে দৌড়ে চলে গেল তার ঘরে। দৌড়ে গিয়ে খাটের
উপর পড়ে বালিস জড়িয়ে ধরে লজ্জায় মুখ লাল করে কামড়াতে লাগলাে।
হৃদয়
চায়নার দৌড়ে যাওয়া দেখে কিছুই বুঝতে পারলাে না । হৃদয় চা কাপে হাত
দিতেই একটি কাগজ দেখতে পেলো। চিঠিটি খুলে পরে সব কিছুই বুঝতে পারল ঘটনা কি।
অহংকারি মেয়ের অহংকারির পতন ঘটেছে। অন্তরে প্রেম প্রবেশ করেছে। হৃদয়
চিঠিটি হাতে মুড়ি করে ধরে বললাে, আমার সঙ্গে তােমার কোন দিন প্রেম হবে না।
চায়না আজ রাত ১টার সময় ছাদে হৃদয়কে ডেকেছে। রাত ১২টা বাজে। চায়না
ভাবছে সময় যায় না কেন । আর হৃদয় ভাবছে সময় এতাে তাড়াতাড়ি যাচ্চে কেন।
রাত ১টা বাজে, চায়না ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। হৃদয় ছাদে গিয়ে
চায়নার সামনে গিয়ে বললাে কি বলবেন বলুন আমাকে খুব ঘুম পাচ্ছে ঘুমাবাে।
চায়না হৃদয়ের সামনে দাড়িয়ে থাকতে পারছে না, থর থর করে পা কাঁপছে। সে
ভয়ে সব কিছু ভুলে গেছে। কিছুই বলতে পারছে না। “হৃদয় তার দাঁড়িয়ে থাকা
দেখে সব কিছুই বুঝতে পেরেছে। কিন্তু বুঝলে কি হবে এসব কথা চায়নার কাছ
থেকেই শুনতে হবে।”
-হৃদয় বললাে, কি ব্যাপার কিছু বলছেন না যে, আমাকে এমনি
এমনি ডেকেছেন নাকি! এই বলে হৃদয় ঘরে আসার জন্য ঘুরতেই চায়না পিছন থেকে
হৃদয়ের হাত ধরল। হাত ধরতেই হৃদয়ের শরীর বিদ্যুতের মত চমকে উঠল। হৃদয়
ঘুরে তাকাতেই-
-চায়না বললাে, আমি আপনাকে ভালবাসি। I Love you Reday, । Love you,
-হৃদয়
বললাে, অসম্ভব, আমি কোথায় আর আপনি কোথায়। -চায়না বললাে, ভালবাসার স্থান
লাগে না, ভালবাসা পবিত্র, ভালবাসা সবার ক্ষেত্রে সমান।
-হাদয়
বললো, আপনার বাবা মা যদি রাজি হয় তবুও আমি আপনাকে ভালবাসতে পারবো না।
কারণ আমার মাকে আমি কথা দিয়েছি শহরে এসে যেন আমি আপনাদের মত বড় লােকের
মেয়েকে ভালবাসা থেকে দূরে থাকি । তার দিকে যেন না তাকাই।
-চায়না বললাে,
আমি আপনাকে ভালবাসি এটাই আমার শেষ কথা।
-হৃদয় বললাে, সব কিছু জোর করে
পাওয়া গেলেও ভালবাসা পাওয়া যায় না। তৰে একটি কাজ আমি করতে পারি।
-চায়না
একটু আনন্দ সুরে বললাে, কি কাজ বলুন?
-হৃদয় চায়নার দিকে মুখ ফিরিয়ে
বললাে, আমি আপনার বন্ধু হতে পারি। এর বেশী কিছু নয়। আপনি ভেবে কাল সকালে
আমাকে বলবেন। আমাকে খুব ঘুম পাচ্ছে দাড়িয়ে থাকতে পারছি না। এই বলে হৃদয়
তার ঘরে চলে গেলাে। চায়না বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছে কি করে সে? ১৫/২০
মিনিট পরে চায়না ঠিক করল যে, হৃদয়ের কথায় সে রাজি। চায়না সত্যি সত্যিই
হৃদয়কে প্রাণ দিয়ে ভালবেসে ফেলেছে। তাই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তাকে আদর
যত্ন, ভালবাসা দিয়ে ভুলিয়ে তার থেকে ভালবাসা আদায় করবে।
-চায়নার আজ সারা
রাত কোন ঘুম হয়নি।
পরদিন সকালে আবার হৃদয়ের জন্য চায়না চা নিয়ে গিয়ে
বললাে, আপনার কথায় আমি রাজি, কিন্তু একটি কথা আমরা পরস্পর তুমি করে বলবাে ।
-হৃদয় একটু মুচকি হেসে বললাে, ঠিক আছে তাহলে আজ থেকে আমরা বন্ধু। চায়না
মনে মনে ভাবছে আজ তুমি বন্ধু দুদিন পর তােমাকে আমার মনে প্রবেশ করাবো।
দেখাে হু
-হৃদয়। চায়নার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাে, চায়না কি ভাবছাে?
-চায়না, কই কিছু না তাে!
-হৃদয় মুচকি হাসতে হাসতে বললাে, তুমি কি ভাবছাে
আমি একটু একটু করে বুঝতে পারছি।
-চায়নাও হাসতে হাসতে বললাে কি ভাবছি বলতাে
দেখি?
-হৃদয় আনন্দ স্বরে বললাে, তুমি ভাবছাে যে, আমার মনে হয় এই সাধারণ
গরীবের ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করা আমার ভুল হলাে। এই কথা হৃদয় ঠাট্টা
করার জন্য বললো।
-চায়না অবাক হয়ে সঙ্গে সঙ্গে বললাে, ছিঃ হৃদয় এসব কি বলছাে তুমি। এই
বলতে বলতে চায়নার মুখ শুকিয়ে গেলাে।
-হৃদয় চায়নার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাে, তুমি দেখি সত্যি সত্যি মন খারাপ
করেছে। ঠিক আছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি এরকম কথা আর কোনদিন বলবো না।
-চায়না
বললাে, আমি তােমাকে ক্ষমা করে দিতে পারি এক শর্তে।
-হৃদয় বললাে, কি শর্ত
বলাে, আমি জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করবাে।
-চায়না বললাে, কাল আমাকে
মাইক্রোতে করে কলেজে নিয়ে যেতে হবে।
-হাদয় হাসতে হাসতে বললাে, আরে এটা
আবার ব্যাপার হলাে নাকি? পরের দিন হৃদয় তার কথা মতাে মাইক্রো করে তারা
দু'জনই কলেজে গেলাে। অনেক ছাত্র ছাত্রী তাদেরকে দেখলাে, চায়নার বান্ধবীরা
তাদের এক সঙ্গে আসা দেখে চায়নাকে বললাে, কিরে চায়না! কোনাে দিন হৃদয়
ভাইয়ের সঙ্গে তুই আসিনি আজ আবার কি মনে করে আসলি?
-আর এক বান্ধবী বললো
প্রেমে পড়েছিস্ মনে হয়।
-চায়না হাসতে হাসতে বললাে, একদিন না যেতেই
তােদের এতাে কথা আরতাে দিন পড়েই আছে। তােদের একটা কথাও ঠিক হয়নি। গতকাল
থেকে আমি আর হৃদয় বন্ধু হয়েছি। বুঝলি?
-এক বান্ধবী বললাে, কেন ওর সঙ্গে
প্রেম না করে বন্ধু হলি? কি মনে করে?
-চায়না বড় একটা শ্বাস ফেলে বললাে
প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম । কিন্তু কাজ হয়নি।
-কেন?
-কারণ সে জীবনে
কোনদিন প্রেম করবে না। তার মাকে সে কথা দিয়েছে।
-এক বান্ধবী বললাে, তাের
মত ধনী মেয়েকে সে ফিরে দিলাে?
-চায়না বললাে হৃদয় সত্যিই খুব ভাল ছেলে
তার মায়ের কথা সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। বান্ধবী বললাে, তাই বলে তাের মত
মেয়েকে ফিরে দিলাে?
-চায়না বললাে, আমি কেন, তার মায়ের জন্য সে নিজের
জীবনটাও হাসি মুখে দিতে পারে।
ধীরে ধীরে চায়না হৃদয়ের মনের মধ্যে স্থান
করে নেওয়ার জন্য সব সময় হৃদয়ের সমস্ত কাজ চায়না করে দেয়। কিন্তু হৃদয়
তা বুঝতে পারে। হদয় মনে মনে বললাে, যতই আমাকে আদর করােনা কেন আমি তােমাকে
ভালবাসতে পারবাে না। বুঝলে My Friend?
চলবে....................


কোন মন্তব্য নেই