দুই পুরুষ (উপন্যাস) পর্ব- ৫
-
তবুও কচি আপত্তি করতে লাগল । বলল , না তবু আমি এ খেতে পারব না।
- তাহলে
মনে করে নিন কোম্পানি আপনাকে খাওয়াচ্ছে ।
শেষ কালে পাখার তলায় বসে কোকটা খেতে বাধ্য হল , সে কোক খাচ্ছে আর রাসেলকে দেখছে ।
রাসেলের পরণে তখন চিট
ময়লা একটা শর্ট প্যান্ট আর ঘাখি গা । সে তখন গাড়ির বনেট খুলে যন্ত্র পাতি
পরীক্ষা করছে , তার শরীরের নড়া চার সংগে সংগে মাসেল গুলাে ফুলে ফুলে উঠছে
। আগে রাসেলের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিল এবার মুগ্ধ হল তার শরীরের গড়ন দেখে
।
প্রায় আধ ঘন্টা কচিকে সেই পাখার তলায় ধুলাে ময়লার মধ্যে বসে থাকতে
হয়েছিল সে দিন । কিন্তু এক পলকের জন্যও রাসেলের স্বাস্থের দিক থেকে তার
নজর সরে যায় নি ।
-গাড়ি সারানাে শেষ হলে রাসেল এসে বলল , গাড়ি ঠিক হয়ে
গেহে , আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম ।
-না ঠিক আছে , কত লাগবে ?
-টাকা এখন দিতে
হবে না ।
- কখন দিতে হবে ?
-আমি বিল দিলে তখন টাকা দিবেন ।
- কবে বিল দিবেন ?
- সে নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না , আমি সময় মতাে ঠিক বিল নিয়ে যাব ।
সাহেদ গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে ।
- রাসেল বলল , গাড়িতে উঠুন গরমের মধ্যে
আপনার খুব কষ্ট হল ।
- না কষ্ট আর কিসের , গাড়ি খারাপ হয়ে গেলে তাে একটু
কষ্ট হবেই ।
- আচ্ছা আস্সালামুআলাইকুম , এবার থেকে গাড়ি খারাপ হয়ে গেলে
আমার কারখানায় দিবেন , এটা আমার কারখানা ।
- কচি বলল , বাবা কে তাই - ই
দিতে বলব , আচ্ছা আসি ।
তারপর একদিন কলেজ যাবার সময় কচি ড্রাইভার সাহেদ
কে বলল , সাহেদ সেই মটরের কারখানায় একবার চল তাে ।
সাহেদ গাড়ি নিয়ে সেই
কারখানায় উঠল ।
গাড়ি দেখেই দৌড়ে এলাে রাসেল । সে তখন অন্য গাড়ি মেরামতের কাজে ব্যস্ত
ছিল । সে কাজ ছেড়ে দৌড়ে এসে বলল , কেমন আছেন ? গাড়ি কি আবার খরাপ হল ?
-
ভাল । গাড়ির কিছুই খারাপ হয় নি , শুধু বলতে এসেছি আপনি বিলতাে পাঠালেন
না ?
সে দিনও রাসেল সেই পােষাকে । শুধু একটা চিন্টু ময়লা শর্ট প্যান্ট আর
মাসেল ভর্তি দেহ । সে বলল , তাড়াতাড়ি কিসের একটু হাত খালি হলেই আমি নিজে
গিয়ে আপনাদের বাড়িতে বিল দিয়ে আসব ।
- আমি ভাবলাম আপনি হয়তাে ভুলে
গেছেন ।
- না , মাস শেষ হলে তখন যাব ভাবছিলাম ।
- মাস শেষ হওয়ার দরকার কি ? আমি বিল নিয়ে এসেছি আজ নিবেন ।
- না , এখনও বিল তৈরী করা হয় নি । দিন
দিন কাজ বাড়ছে , সেই সকাল ন’টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এক নাগাড়ে কাজ করতে
হয় আমাকে ।
- কচি বলল , আমার ঠিকানা জানেন ?
-আপনার ঠিকানা কে না জানে ।
আপনার বাবার নাম বললে এক বাক্যে সবাই বাড়ি দেখিয়ে দেবে ।
- ঠিক আছে আসবেন
একদিন । এই বলে কচি চলে গেল ।
একদিন বিকেল বেলা হঠাৎ রাসেল বাড়িতে এসে
হাজির । আয়ার কাছে খবর পেয়েই বাইরে বেরিয়ে এলাে কচি । দেখল রাসেলের
একেবারে অন্য রকম । চেহারা । পরণে সেই শর্ট প্যান্ট নেই । বেশ লম্বা ডােরা
ডােরা দাগের প্যান্ট গায়ে খুব সুন্দর কালারের শার্ট ।
- ও আপনি ! আমি
চিনতেই পারি নি ।
- হাসতে হাসতে রাসেল বলল , আপনাদের বাসায় ওই পােষাক পরে
আসতে লজ্জা করল ।
- সেই পােষাকটাই কিন্তু বেশী ভাল লাগে ।
- আমরা মিস্ত্রী
মানুষ , কালি , ধুলি , ময়লা নিয়েই আমাদের কাজ । তাই কারখানায় যতক্ষণ
থাকি ততক্ষণ ওই বিশ্রী পােষাক পরে থাকি । তাই বলে কি ওই পােষাক পরে এখানে
আসা যায় ।
- কি খাবেন বলুন চা না কফি ?
- না , কিছুই খাব না ।
- তা হতে পারে না , আপনি সেদিন আমাকে কোক খাইয়ে ছিলেন , সেকি আমি ভুলে গেছি মনে করেছেন । কিছু খেতেই হবে । চা কফি না খান একটা কোক এনে দেই ।
- রাসেল
আবার হাসল বলল , ধার শােধ দিচ্ছেন ? সে দিন ভাগ্যিস আপনার গাড়ি খারাপ
হয়ে গিয়েছিল তাইতাে আজ এত বড়লােকের বাড়িতে ঢােকার সুযােগ হল । নইলে মোটর মিস্ত্রীদের কেউ মানুষই মনে করে না ।
কচি ততক্ষণে আয়াকে কোক নিয়ে
আসতে বলেছে ।
- কচি বলল , দিন আপনার বিলটা দিন ।
- অত তারাহুড়াে কেন ?
আমাকে বুঝি শিগগির শিগগির তাড়িয়ে দিতে চান ?
- না না সে কি ! আপনি কোক খেয়ে তারপর যাবেন । আমি আয়াকে কোক আনতে বলেছি । রা
সেল পকেট থেকে বিলটা
কচির দিকে বাড়িয়ে ধরল । কচি বিলটা দেখে অবাক বলল , এ কী ! মাত্র এই কয়
টাকা চার্জ ?
- যে কয় টাকা বিল হয়েছে সে কয়টাকায় ধরেছি । বেশী ধরব কেন ?
কচি বিশ্বাস করল না । বলল , আপনি আধ ঘন্টা খাটলেন আর বিল করেছেন মাত্র এই কয় টাকা ! জানেন না ডি সিরা বড়লােক এত কম চার্জ করলে তাদের খারাপ লাগে ।
-
রাসেল একটু অবাক হয়ে , সে কি !
- হ্যাঁ তাদের ইজ্জতে লাগে । বড়লােকদের পেটের অসুখ হলে সেটা তাদের লজ্জা । পেটের অসুখ হবে গরীবদের কারণ তারা গরীব লােক , আজে বাজে জিনিস খায় । আর বড়লােকদের রােগ হলে হবে ডায়াবেটিস , কিম্বা ব্লাড প্রেসার । বড় লােকদের বড় বড় রােগ না হলে তাতে তাদের লজ্জা করে । আর আপনি মােটর সারানাের চার্জ করলেন মাত্র এই কয় টাকা ?
- এ আমি
নতুন কথা শুনছি আপনার কাছ থেকে ।
- কেন আপনি জানেন না ডাক্তাররা বড়লােকদের অসুখ হলে দামি দামি ঔষধ লিখে দেয় আর সেই একই রােগ গরীব লােকদের হলে কম দামী সস্তা ঔষুধ লিখে দেয় । তা খেয়েই ভাল হয়ে যায় ।
- রাসেল হাসতে হাসতে বলল , আপনার কথা শুনে ভালই লাগল ।
- তাছাড়া এর সঙ্গে কোকের দামটা
ধরেন নি ।
ততক্ষণে একটা ট্রে করে আয়া কোক এনে সামনে ধরল ।
চলবে---------


কোন মন্তব্য নেই