Header Ads

লাভ (উপন্যাস) পর্ব- ৪



লাভ
                                    এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন

উপন্যাস(পর্ব-৪)

হৃদয়ের সামনে এইচ,এস,সি পরীক্ষা। হৃদয় এখন পড়ায় খুব ব্যস্ত, বাড়ি থেকে বের হয় না। আজ হৃদয়ের বন্ধুরা হৃদয়কে ডাকতে এসেছে ক্রিকেট খেলার জন্য।

Love


-হৃদয় বললাে, দেখ ভাই আমি এখন ক্রিকেট খেলতে পারবে না, এখন পড়ার খুব চাপ।

হৃদয়ের বন্ধু বললাে, শােন হৃদয় তুই আমাদের অধিনায়ক এবং সবচেয়ে ভাল প্রিয়ার। তােকে ছাড়া আমরা খেলতে পারবাে না। তােকে আমরা অনুরােধ করছি পরীক্ষার আগে আজই শুধু খেলবি আর তােকে ডাকবাে না ।

-হৃদয় কিছুক্ষণ পর বন্ধুদের বললাে, তােরা একটু দাঁড়া খালা আম্মার কাছ থেকে শুনে আসি সে যদি খেলতে দেয় তাহলে খেলবাে। নিষেধ করলে খেলবাে না। এতে তােরা রাগ কর আর যাই কর না কেন।

-ঠিক আছে যা শুনে আয় ।

-হৃদয়, চায়নার মায়ের কাছে গিয়ে বললাে, খালা আম্মা আমার বন্ধুরা আমাকে খেলতে যেতে বলছে।

-খালা আম্মা হাসতে হাসতে বললাে, তাতে আমাকে কি করতে হবে?

-হৃদয় বললাে, আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে যাব না হলে যাৰ না।

-চায়নার মা বললাে, যাও, না গেলে আবার তোমার বন্ধুরা রাগ করৰে।

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, ঠিক আছে খালাআম্মা এক্ষুনি যাচ্ছি ।

-এই বলে হৃদয় পিছন ঘুরে যেতেই চায়নার মা হৃদয়কে ডেকে বললাে, শােন হৃদয়

-হৃদয় ঘুরে বললাে, কি বলবেন?

-খালা আম্মা বললাে, সাবধানে খেলবে সামনে পরীক্ষা, শরীরের যেন ক্ষতি না

-হৃদয় মুচকি হাসতে হাসতে বললাে, ঠিক আছে খেলার সময় আপনার এই কথা সব সময় মনে রাখবাে। এই বলে হৃদয় তার বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়ে গেলাে। যেতে যেতে হৃদয়ের এক বন্ধু হৃদয়কে বললাে, এই খেলায় যদি আমরা জয়লাভ করতে পারি তাহলে শাহসুলতান কলেজের সঙ্গে আমাদের ফাইনাল খেলা হবে পরীক্ষার পর।

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, তাই নাকি? তাহলে আমরা শাহসুলতান কলেজের সাথে ফাইনাল খেলছি।

-বন্ধু বললাে, আগে জয়লাভ করি তারপর ফাইনালের চিন্তা।

-হৃদয় বললাে, কোন চিন্তা নেই আমরা জয় আনবই ইনশাল্লাহ।

-তাদের মধ্যে এক বন্ধু বললাে, হৃদয় যখন আমাদের সঙ্গে আছে তাই আমাদরে জয় করার সম্ভাবনা আছে ।

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, বেশী সুনাম করিস না, শেষে দেখবি কিছুই খেলতে পারবাে না।

তারা গল্প করতে করতে মাঠে এসে গেছে। বিরােধী দলেরও প্রায় সবাই এসেছে। দু’জন বাকি তাই তারা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল ।

১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে সকলে উপস্থিত হলাে, মাঠের চারদিকে দর্শক জমে গেলাে।

মেয়েদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। চায়না এসেছে হৃদয়ের খেলা দেখতে। কিছুক্ষণের মধ্যে খেলা শুরু হলাে। প্রথমে হৃদয়রা ব্যাটিং। হৃদয় ব্যক্তিগত রান করেছে ১১২। তার মত কেউ খেলতে পারেনি। তারা সর্ব মােট ২৮০ রান করেছে আর বিরােধী দল ১৯৩ রান করে সকলে আউট । সকলেই হৃদয়ের খেলা দেখে অবাক। সত্যিই হৃদয় তাদের তুলনায় অনেক ভাল। খেলেছে। চায়না ভীষণ খুশি হৃদয়ের খেলা দেখে । হৃদয় এ খেলায় ৫ হাজার টাকা পেয়েছে। হৃদয়ের বন্ধুরা বললাে, হৃদয়ের জন্যই আমরা জিতেছি। হৃদয় বাড়ি যাওয়ার পথে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ৫ হাজার টাকাই তার মায়ের নামে পাঠাবে ঠিক করলাে।

বাবু হৃদয়কে বললাে, কিছু টাকা রেখে দে।

কিন্তু হৃদয় বললাে, আমার এখানে টাকার প্রয়ােজন হয় না। টাকা পাঠানাের সময় হৃদয় ভাবলাে, বাবা, মা, অবশ্যই ভাববে আমি টাকা কোথায় পেলাম ! হয়তােবা আমার উপর রাগ করে টাকা ফিরে দিবে।

অনেক কিছু ভেবে হৃদয় ভিন্ন চিঠিতে সব খুলে বললাে। বাবা, মা তার চিঠি পড়ে সব বুঝতে পেরেছে।

চায়নার মা খুব খুশী হয়েছে হৃদয়ের খেলা দেখে। খেলার জন্য হৃদয়কে চায়নার বাবা, মা একসেট সার্ট ও প্যান্ট উপহার দিয়েছে

-হৃদয় বাড়ি যাওয়ার জন্য রেডী হয়ে চায়নার মাকে বললাে, আমি এক্ষুণি বাড়ি যাব।

-চায়নার মা অবাক হয়ে বললাে তােমার সামনে পরীক্ষা এখন তুমি বাড়ি যাবে কেন?

-হৃদয় বললাে, বাবা মার কাছে দোয়া নিতে।

-চায়নার মা একটু হাসতে হাসতে বললাে, ঠিক আছে যাও। বেশি দিন থাকবে

-হৃদয় বললাে, না কালই চলে আসবাে।

-চায়নার মা বললাে, সাবধানে যেও কিন্তু।

হৃদয় আচ্ছা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাে। হৃদয় তার বাবা মার কাছে। দোয়া নিয়ে পর দিন বিকালেই চলে এসেছে। আস্তে আস্তে হৃদয়ের দিন শেষ হয়ে আসছে। আগামী কাল থেকে তার পরীক্ষা। অনেক ছাত্র আছে পরীক্ষার সময় পাগলের মত পড়ে। অন্য সময় পড়ে না। কিন্তু হৃদয় পরীক্ষার আগেই সব পড়ে রেডি করে রেখেছে। যেন পরীক্ষার সময় কোন অসুবিধা না হয়। একে একে সব পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলাে হৃদয়ের । হৃদয় এইস,এস,সি পরীক্ষা খুব সুন্দর দিয়েছে। সে আশা করে যে এই পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করবে। হৃদয় কয়েকদিন বাড়ি থেকেই চলে আসবে। খালাআম্মা বললাে, তাড়াতাড়ি চলে এসাে জাহিদের পরীক্ষা সামনে। হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, ঠিক আছে খালাআম্মা বাড়ি থেকে এসে জাহিদকে এমন পড়া পড়াবাে দেখবেন এবার সে ফাষ্ট হবেই। এই বলে হৃদয় তার ঘরে চলে এলাে। ঘরে ঢুকতেই দেখে চায়না হৃদয়ের বিছানায় বসে আছে।

-হৃদয় চায়নার পাশে বসে বললাে, তুমি এখানে? কিছু বলবে?

-চায়না বললাে, তুমি কবে আসবে?

-হৃদয় ঠাট্টা করার জন্য বললাে, ৫ দিন থাকতে চেয়েছিলাম। ঠিক আছে। ১০দিন পরেই আসবাে।

-চায়না অবাক হয়ে বললাে, কেন? আমার কথা শুনে ১০ দিন পর আসবে কেন?

-হৃদয় বললাে, তােমার কথা হিসাবে মনে হচ্ছে, দেরীতে আসলেই তােমার ভাল।

-চায়না রেগে উঠে বললাে, ৫ দিনের যদি বেশী থাক তাহলে ৫ দিন হওয়ার পর থেকে না খেয়ে থাকবাে । তুমি না এলে আমি কিন্তু না খেয়েই মরবাে। দেখবে।

-হৃদয় বললাে, তােমার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমি তােমার প্রেমিক।

- চায়না হঠাৎ বলে উঠলাে, তুমি আমার প্রেমিক নয়তাে কি?

-হৃদয় রেগে গিয়ে বললাে, তুমি যদি আমাকে বন্ধু ছাড়া অন্য কিছু ভাব তাহলে কিন্তু আমি আর এ বাড়িতে থাকবাে না।

-চায়না ভয়ে ভয়ে হৃদয়কে বললাে, ঠিক আছে আর কোন দিন বলবাে না । আমাকে ক্ষমা করে দিও। তবুও চলে যেওনা। এই বলে দৌড়ে চায়না তার ঘরে গিয়ে কাঁদতে লাগলাে।

“হৃদয় কাপড় চোপড় গুছে যাওয়ার জন্য রওনা হলাে। বাড়িতে গিয়েই হৃদয় মা ও বাবাকে তার পরীক্ষার কথা জানালাে, বাবা, মা শুনে খুশি।”

-মা বললাে, রেজাল্ট পেলেই বুঝতে পারবাে কেমন পরীক্ষা দিয়েছিস।

-হৃদয় বললাে, দেখাে অবশ্যই ভাল হবে।

-মা বললাে, ভাল হলে তাে আল্লাহপাকের কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। যা হাত মুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে নে ।

-হৃদয় তার ঘরে যেতেই দেখে জুসি বসে আছে। জুসিকে দেখে হৃদয় বললাে, কিরে জুসি কেমন আছিস। মুখ দেখে মনে হচ্ছে আমার উপর রেগে ভুত হয়ে আছিস।

-জুসি বললাে, রেগে থাকবাে না। বাবা মাকে পেয়ে আমার কথা ভুলে

-হৃদয় বললাে, তাের কথা ভুলবাে কেন, বাবা, মার কাছে তােকে দেখলাম নী বলেইতাে ছুটে এলাম তােকে দেখতে। বুঝেছি এখন হাত মুখ ধুয়ে খেতে যাও |

-হৃদয় বললাে, না আগে বল আমার উপর তাের রাগ মিটেছে কিনা?

-জুসি হাসতে হাসতে বললাে, তােমার উপর রাগই করিনি মিটবে কি ।

-হৃদয় বললাে, কিছুক্ষণ আগে তাহলে আমার দিকে ঐরকম করে মুখ করে ছিলি কেন?

-জুসি মুচকি হেসে বললাে, এমনি অভিনয় করলাম। হৃদয় বললাে, ভালইতাে অভিনয় শিখেছিস।

এভাবে হেসে খেলে হৃদয়ের ৪ দিন চলে গেলাে।

আজ সকালে সবাই নাস্তা করতে বসেছে।

-খেতে খেতে হৃদয় বললাে, বাবা আমাকে কালকেই যেতে হবে।

-মা বললাে, কেন আর দুই দিন থেকে যা।

মা জাহিদের সামনে পরীক্ষা তাকে পড়াতে হবে। তাছাড়াও আমাদের খেলা আছে।

-বাবা বললাে, লেখা পড়া ছেড়ে দিয়ে যেন আবার খেলায় বেশী মত্ত হইও না । না বাবা অবসর সময় খেলি।

-বাবা বললাে সেই জন্যই তাে পরীক্ষার আগে পড়া বাদ দিয়ে খিলেছিলে । ঐ এক দিনই শুধু খেলেছি বাবা। আর খেলিনি।

-বাবা বললাে, যাও রেজাল্ট বের হলে আসবে।

-হৃদয় বললাে, ঠিক আছে।

-জুসি বললাে, নিয়মিত চিঠি দিবে।

-হৃদয় বললাে, নিয়মিতই তাে দৈই ।

-জুসি বললাে, কই শুধু বাবা মার নামে চিঠি লিখাে আমার নামে ঠিকমত দেও না ।

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, ও ঠিক আছে এবার থেকে দিবাে। পরের দিন হৃদয় বগুড়া চলে এলাে।

হৃদয় বাড়িতে এসে দেখে চায়নার মা বারান্দায় চেয়ারে বসে আছে। চায়নার মাকে হৃদয় সালাম দিয়ে বললাে, কেমন আছেন খালাআম্মা?

-খালাআম্মা বললাে, ভালই আছি তবে তুমি কেমন আছাে?

-ভাল আছি।

-খালাআম্মা বললাে, তােমার বাবা, মা, বােন কেমন আছে?

-হৃদয় বললাে, ওরা সবাই ভাল আছে আল্লাহর রহমতে। তবে বাড়ি খালি খালি লাগছে কেন চায়না কোথায়? জাহিদ কোথায়? কাউকে দেখছিনা ।

-খালাআম্মা বললাে, চায়না কলেজে, জাহিদ স্কুলে, এ বাড়ির কর্তা গিয়েছে অফিসে। আর বুয়া দু’দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছে।

-হৃদয় বললাে, আমিও তাহলে বাহিরে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাই।

-খালাআম্মা বললাে, যাও তুমি আবার বাড়িতে বসে বসে কি করবে । হৃদয় তার বন্ধু বাবুর কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হলাে, যেতে যেতে বাবুর সঙ্গে হৃদয়ের দেখা।

-বাবু হৃদয়কে দেখে বললাে, কিরে হৃদয় কেমন আছিস?

-হৃদয় বললাে, ভালাে । তুই কেমন আছিস? বাড়ি যানি?

-বাবু বললাে, আমিও ভাল। বাড়ি যাব রেজাল্টের পর। তােকে যে দেখাই যায় না। এই কয়দিন কোথায় ছিলি?

-হৃদয় বললাে, বাড়ি গিয়েছিলাম।

-বাবু বললাে, তাের বাবা, মা, বােন কেমন আছে?

-হৃদয় বললাে ভাল, তুই আমাদের বাড়ি যেতে চেয়েছিলি কিন্তু দুঃখের বিষয়। নিয়ে যেতে পারলাম না। আসলে আমার মনে ছিল না।

-বাবু বললাে, ঠিক আছে আরেক দিন যাব । হৃদয় একটু আশ্চর্য ভাষায় বললাে, কিরে বাবু আমাদের খেলা কবে?

-বাবু বললাে এইতাে সামনে শনিবার । ভাল করে খেলবি কারণ অনেক নামি দামি লােক দেখবে, ঢাকা থেকে মন্ত্রী আসবে। হৃদয় খুশিতে আশ্চর্য হয়ে বললাে, তাই নাকি তাহলে আজ থেকেই প্যাক্টিজ করতে হবে ।

আজ শনিবার, হৃদয় সকালে ঘুম থেকেই উঠেনি, চায়না এসে ডেকে তুললে হৃদয় বললাে, এই সকালে কি মনে করে এলে?

-চায়না বললাে, কি মনে করে মানে, কয়টা বাজে খেয়াল আছে? বাহিরে চেয়ে দেখাে, রােদ উঠেছে।

-হৃদয় ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখে লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বললাে, তাইতাে অনেক বেলা হয়েছে। আজ আমাদের ফাইনাল খেলা সকালে আমাকে যেতে বলেছে। হৃদয় তাড়াতাড়ি করে বাথরুম সেরে খাওয়া দাওয়া করে সােজা বাবুর কাছে এলাে।

-হৃদয় এসে বললাে, কিরে বাবু এখনাে তুই যানি?

-বাবু একটু রেগে বললাে, তাের জন্যই তাে বসে আছি শিগ্রি চল্ দেরী হয়ে গেছে। বাবু হৃদয় দু’জন কলেজে এলাে। কলেজের ছেলেরা তাদেরকে দেরীতে আসা দেখে বললাে, তােরা এতাে দেরী করলি কেন? তােদের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি । হৃদয় বললাে, একটু দেরী হয়ে গেল বন্ধু । I am sorry

“তারা সবাই আলতাফুননেছা খেলার মাঠে যাওয়ার জন্য কলেজ বাসে উঠল । তিনটি কলেজ বাস বের হয়েছে। একটি বাসে ছাত্রীরা, এক বাসে শিক্ষক আর একটি বাসে ক্রিকেট খেলােয়াড় ও তাদের ক্লাসের বন্ধুরা। মাঠে গিয়ে দেখে বিপক্ষ দল এসেছে, অনেক দর্শক জমেছে মাঠের চার পাশে । সকাল ৯টা থেকে খেলা শুরু হওয়ার কথা কিন্তু সাড়ে ৯টা বেজে গেছে খেলা এখনাে শুরু হয়নি কারণ মন্ত্রী সাহেব এখনাে আসেনি বলে । কিছুক্ষণ পরে ৫ থেকে ৭টি মাইক্রো বাস থামলাে। মাননীয় মন্ত্রী সাহেব এসে বেলুন উড়িয়ে খেলা উদ্বোধন করলেন ।”

“৩০ ওভারের খেলা। হৃদয় তার দলের অধিনায়ক। টচে হৃদয়ের দল ফিল্ডিং ও শাহসুলতান কলেজ ব্যাটিং। হৃদয় তার খেলােয়াড়দের মাঠের মধ্যে প্লেস করে দিচ্ছে। খেলােয়াড়রা সবাই যার সেই জায়গা সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্তুত।

হৃদয় প্রথমে বল করতে নেমেছে। প্রথম ওভারে হৃদয় একজনকে বােল্ড আউট করে। তৃতীয় ওভারে দ্বিতীয় জনকে ও ২২ ওভারে তৃতীয় জনকে ক্যাচ আউট করে হৃদয় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পায়। শাহসুলতান কলেজ ৩০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৫ রান করে। আজিজুল হক কলেজ দলের মধ্যে হৃদয় সবচেয়ে ভাল খেলেছে। প্রথম ইনিংসের খেলা শেষ দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা বেলা ২.৩০মিনিট থেকে । মন্ত্রী হৃদয়ের খেলা দেখে মুগ্ধ । দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু হবে কিছুক্ষণের মধ্যে। শাহসুলতান কলেজ ১৮০ বলে ২০৫ রান করেছে। শাহসুলতান কলেজ খুব ভাল খেলেছে। হৃদয় মনে মনে ভাবছে। আজ আমরা জয়ের মুখ দেখতে পারবাে না। তবুও চেষ্টা করবাে দেখি আল্লাহপাক কি করে। খেলা শুরু, সবাই মাঠে নেমেছে। হৃদয়কে বাবু প্রথমে নামতে বললাে, হৃদয় বললাে আমাদের জিতার সম্ভাবনা খুব কম তাই আমি আজকে সবার শেষে নামবাে, যা । আল্লাহ যা করে।

আজিজুল হক কলেজ ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৭ রান সংগ্রহ করেছে। সর্বশেষ উইকেট হৃদয় শুধু আছে। তাকে মাত্র আর ৬০ বলে ৯৯ রান করতে হবে। সবাই বুঝতে পারলাে আজিজুল হক কলেজ হারবে নিশ্চিত। কারণ হৃদয় আর কতই বা ভাল খেলবে। শেষ উইকেট হৃদয় এলাে মাঠে। মানুষের করতালি বন্ধ। মাননীয় মন্ত্রী হৃদয়কে দেখে ভাবলাে এই ছেলে শুধু বােলিংই হয়তাে পারে। ব্যাটিং পারে না। তাই তাকে শেষে নামিয়েছে। ২১ ওভারে শুরু হৃদয়ের প্রথম বল । প্রথম বলেই হৃদয় একটি ৬ মেরেছে। আমপিয়ার দুই হাত উপরে তােলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের করতালি ও শ্লোগান। অনেকেই ভেবেছিল আজিজুল হক কলেজ পারবে না। এই বলে বাড়ির দিকে রওনা হলাে। হৃদয়ের ছক্কা মার দেখে সবাই মুখ ফিরালেন খেলা দেখার জন্য। এভাবে খেলতে খেলতে আজিজুল হক কলেজের জয়ের মুখ ফিরিয়ে আনল হৃদয় । হৃদয় ৫টি ছয় ও ৮টি ৪ মেরে মানুষকে অবাক করে দিয়েছে। আর মাত্র ১০ বলে ১৫ রান করতে হবে । হৃদয়ের খেলা দেখে সবাই মুগ্ধ হলাে। সবার মুখে মুখে হৃদয়ের নাম । মাননীয় মন্ত্রী হৃদয়ের সম্পর্কে যে ধারণা নিয়েছিল তা পাল্টে গেল। আর মাত্র ১ বল আছে। আজিজুল হক কলেজ ২৯ ওভার ৫ বলে সংগ্রহ করেছে ২০১ রান। হৃদয়ের ব্যক্তিগত রান হয়েছে। ৯৪। আর মাত্র ১ বলে ৫ রান নিতে হবে । হৃদয়কে এই শেষ বলে ৬ মারতে হবে । সবাই চুপ, সম্পূর্ণ মাঠ যেন ফাকা, একটি মানুষও নাই। সবাই শুধু হায় হায় করছে যে, একটুর জন্য আজিজুল হক কলেজ হারবে। তবুও মাননীয় মন্ত্রী হৃদয়ের উপর সন্তষ্ট। এদিকে হৃদয়ের পা

ভয়ে কাঁপছে কি যে হয় । তবুও হৃদয় সাহস করল । আর আল্লাহ উপর ভরসা রাখলাে। শেষ বল করছে হৃদয় চোখ বন্ধ করে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ব্যাট চালালাে। একেবারে বল মাঠের সীমানা পেরিয়ে এক বাড়ির উপর গিয়ে পড়ল । হৃদয় আনন্দে মাটিতে পড়ে গেল । আম্পিয়ার ছয় এর সংকেত দিলাে । আজিজুল হক কলেজ জয়ী হৃদয়ের ১০০ রান পূর্ণ হলো । মাননীয় মন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করে হৃদয়কে তার সঙ্গে ঢাকায় নিয়ে যাবে বলে তাকে জানায় । হৃদয়। মাননীয় মন্ত্রীকে বললাে, আপনি বগুড়াতে কয়দিন অবস্থান করবেন। মাননীয় মন্ত্রী বললাে, বগুড়াতে ৫ দিন থাকবাে। হৃদয় বললাে আমাকে বাবা, মার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। ঠিক আছে যাও অনুমতি নিয়ে এসাে।

পরদিন “দৈনিক করতােয়া” পত্রিকায় হৃদয়ের ছবি ও মন্ত্রী তাকে ঢাকায় নিয়ে যাবে সে কথা লিখেছে। সে দিন হৃদয়ের বাবা হাটে গিয়েছে হাট করতে । হাটে ২/৩ জন করতােয়া পেপার নেয় । এক লােক পেপারে হৃদয়ের ছবি দেখে হৃদয়ের বাবাকে বলল এবং ছবি দেখালাে, বাবা বিশ্বাসই করল না। বাড়িতে এসে দেখে হৃদয় এসেছে। হৃদয়ের কথা শুনে বুঝতে পারলাে কথা সত্যি। হৃদয় তার বাবাকে বললাে, বাবা আমি ঢাকায় যাব এবং সেখানেই কলেজে  ভর্তি হব।

-বাবা বললাে, যাই কর পড়া লেখার যেন ক্ষতি না হয় ।

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, ঠিক আছে বাবা, জুসি হৃদয়ের ঘরে গিয়ে বললেন, ভাইয়া ঢাকায় গিয়ে চিঠি দিও। ভাইয়া তুমি আরাে দূরে চলে গেলে, তুমি বগুড়া থেকে মাসে দুই বার আসতে এখন তুমি তাও আসবে না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ভাইয়া। দুঃখের সহিত বললাে জুসি।

মন খারাপ করিস না ঘন ঘন আসার চেষ্টা করবাে । মুখ ভার করে বললাে হৃদয় । পরদিন বগুড়া চলে এলাে হৃদয় ।

-হৃদয় চায়নার বাবাকে বললাে। তিনি বললেন ঠিক আছে বাসায় মাঝে মাঝে ফোন করাে।

-হৃদয় বললাে, ঠিক আছে করবাে। চায়নার ঘরে চায়না মন খারাপ করে বসে আছে। হৃদয় যেয়ে বললাে, কি ব্যাপার আমি ঢাকা যাব সবাই খুশি তুমি খুশি নও?

-চায়না কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাে, তুমি চলে গেলে আমি থাকবাে কি ভাবে?

-হৃদয় হাসতে হাসতে বললাে, তুমি আমার বন্ধু আছ এবং বন্ধু থাকবে। চিঠি দিয়ে, আমি টেলিফোন করে তােমার সাথে কথা বলবাে। এইতাে সব হলো, দুঃখ কিসের । 

আজও সে বলতে চেয়েছিল, হৃদয়কে চায়না জীবন দিয়ে ভালবাসে কিন্তু ভয়ে বলেনি। কারণ যদি আবার রাগ করে? রাগ করলে হয়তাে আমার সাথে সে আর কথাই বলবে না।

-তাই হৃদয়কে বুঝতে না দিয়ে কষ্টের আগুন বুকে নিয়ে মৃদু হাসতে হাসতে বললাে, ঠিক আছে যাও কিন্তু টেলিফোন প্রতি সপ্তাহে করবে। না করলে বুঝবাে, তুমি ওখানে অনেক বন্ধু পেয়ে চায়না বন্ধুর কথা ভুলেই গেছাে ।

-পরদিন হৃদয় বাবুর কাছে গেলাে, সবকিছু বলতে । ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখে বাবু নেই। তাই হৃদয় বাসায় ফিরে আসতেই বাবুর সঙ্গে দেখা । হৃদয় বাবুকে ধরে মন খারাপ করে বললাে, দোস্ত আমি তােকে ছেড়ে ঢাকা চলে যাচ্ছি ।

-বাবু হৃদয়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে হাসতে হাসতে বললাে, কাঁদছিস কেন- পাগল, তােকে ছাড়া আমি থাকতে পারি নাকি বল?

-হৃদয় আশ্চর্য হয়ে বললাে, তাের কথা আমি বুঝতে পারলাম না ।

-বাবু বললাে, এইটুকু কথা বুঝতে পারছিস না। আমিও তাের সঙ্গে ঢাকা যাব এবং এক সঙ্গে দু’জন লেখা পড়া করবাে। হৃদয় আনন্দে বাবুকে জড়িয়ে ধরে দু'গালে চুমু খেতে লাগলো। তাের কথা শুনে আমাকে পাগল হতে ইচ্ছে করছে বন্ধু ।

-বাবু বললাে, পাগল হওয়ার দরকার নেই, আমার ঘরে চল ।

-হৃদয় বললাে, না আগে তাের কথা খালাআম্মাকে বলে আসি। শােন বাবু কাল সকাল বেলা সবকিছু ঠিক করে আমার বাড়ি যাবি। কালকে ঢাকা যাওয়া হবে বুঝলি।

-বাবু বললাে, ঠিক আছে। মন্ত্রী সাহেব হৃদয়ের বাসায় মাইক্রো পাঠিয়ে দিয়েছে নিয়ে আসার জন্য।

-বাবুও এসেছে হৃদয় বের হয়ে চায়নার মাকে বললাে, খালাআম্মা আমার জন্য দোয়া করবেন । চায়না ঘরে কাঁদছে।

-হৃদয় বললাে, চায়না কোথায়?

-খালাআম্মা বললাে, ঘরে আছে ।

-হৃদয় চায়নার ঘরে গিয়ে চায়নার কাদা দেখে বললাে, প্রতি সপ্তাহে ফোন করবে। এই বলে হৃদয় চায়নার চোখের পানি মুছে দিলাে

-জাহিদ এসে বললাে স্যার আমি আর ভাল রেজাল্ট করতে পারবনা আপনি। চলে গেলে। কেন আরাে অনেক স্যার আছে তারা তােমাকে আরাে ভাল রেজাল্ট করাবে। এই বলে হৃদয় খালাআম্মার পায়ে সালাম করে চলে গেলাে, সঙ্গে বাবু আছে।

চলবে.............

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.