Header Ads

দুই পুরুষ (উপন্যাস) পর্ব- ৬


দুই পুরুষ
                             
                            এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন

উপন্যাস (পর্ব-৬)

-বােতলটি নিয়ে রাসেল বলল , এই তাে তার দাম শােধ হয়ে গেল । তারপর একটু থেমে বলল , যাক আর আপনাকে বিরক্ত করব না । আপনার বাবা কোথায় , বাড়ি আছেন ?

দুই পুরুষ


- না , অফিসে গেছে ।

- তাহলে বিলটা তাঁকে দিয়ে দিবেন । আমি অন্য একদিন এসে টাকা নিয়ে যাব ।

-বাড়িতে বাবাও নেই মাও নেই কিন্তু তাঁর মেয়েতাে আছে । সেই আপনাকে টাকাটা দিয়ে দিবে । এই বলে কচি টাকা নিতে ভিতরে গেল ।

তার খানিক্ষণ পরেই টাকা নিয়ে রাসেলের হাতে দিল । টাকা নিয়ে রাসেল দাঁড়িয়ে উঠল । তারপর দরজার দিকে যেতে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াল বলল , একটা কথা মনে রাখবেন ।

- কি কথা ?

- আপনার গাড়ি যখনই খারাপ হবে তখনই আমার কারখানায় পাঠাবেন ।

- আর যদি খারাপ না হয় ?

- তাহলে বুঝব আমার দুর্ভাগ্য । গাড়ি খারাপ না হলে তাে আর শুধু শুধু আপনাকে আমার কারখানায় যেতে বলতে পারি না ।

- গাড়ি বারবার খারাপ হলেতাে আমারও ভাল ।

- কেন ?

- তাহলে এক বােতল কোক ফ্রি খেতে পারব ।

দু'জনই হেসে উঠল ।

তারপর রাসেল তার স্কুটারে উঠে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল । মজা এই যে তারপর থেকে গাড়িটা প্রায়ই খারাপ হতে লাগল ।

- মিস্টার জাকির বলল , তােমার গাড়িটা রােজ রােজ খারাপ হয় কেন বলতাে ?

- কচি বলল , আমি তা কি করে বলব । ড্রাইভার সাহেদকে ডাকলেন মিস্টার জাকির । বলেলেন , কি ব্যপার বলতাে কচির গাড়ি এতাে খারাপ হয় কেন ? কোন ওয়ার্কশপে দাও তুমি ?

- সাহেদ বলল , হুজুর গাড়িটা পুরাতন হয়ে গেছে , নতুন মডেল কিনলে ভাল হয় ।

মিস্টার জাকিরও তাই বললেন মেয়েকে । বললেন , তােমাকে একটা নতুন । গাড়ি কিনে দিতে হবে । এই গাড়িটা পুরাতন হয়ে গেছে ।

-না না বাবা নতুন গাড়ি কিনাে না । পুরাতন গাড়ি হলেও এই গাড়িটা পয়া । এই গাড়িটা করে আমি যেখানে গিয়েছি সেখানেই সাকসেসফুল হয়েছি । এইস , এস , সি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করেছি তারপর ল- এর রেজাল্টও ভাল ।

- মিসেস জাকির বললেন , তা পয়া হলে কি চিরকাল এই গাড়িটাই রাখতে । হবে ? গাড়িটারও তাে বয়স হয়েছে । নতুন একটা গাড়ি ওকে কিনে দাও ।

- কচি একটু জোড় গলায় বলল , না মা আগে ল - টা ভাল ভাবে পাশ করে । নেই তখন গাড়ি বদলাব । এটা সত্যিই খুব পয়া গাড়ি ।

কেন যে নতুন গাড়ি চাইছে না তা আর বলবার অবকাশ রাখে না । কচি গাড়ি নিয়ে বেরিয়েই সাহেদকে বলত , এই শব্দটা কিসের হচ্ছে সাহেদ ?

সাহেদ বুঝতে পারত না , বলত , কিশের শব্দ ? কোথায় শব্দ ? আমিতাে কোন শব্দ শুনতে পাচ্ছি না । গাড়িটা নিয়ে সাহেদ কারখানায় যেত ।

- রাসেল বলত , আবার কি হল ? গাড়িটার চাকায় কি রকম একটা শব্দ হচ্ছে , সাহেদ ধরতে পারছে না । কিছুই ।

- তাহলে তাে গাড়িটা চালিয়ে দেখতে হবে । সাহেদ কারখানায় বসে থাকতাে । আর রাসেল কচিকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেত । আজও তার বিপরিত হল না , যেতে যেতে শহরের বাহিরে । সুন্দর এক জায়গায় , দেখতে ভীষণ সুন্দর । উঁচু উঁচু পাহাড়ের পাস দিয়ে রাস্তা , কতই না সুন্দর লাগছে দেখতে । তার থেকে কিছু দূর গিয়ে সুন্দর এক বাগান , বাগানে ঢুকতে টিকিট কাটতে হয় , কিন্তু এটা পার্ক নয় । ইন্ডিয়ার এক বড় ব্যবসায়ী এখানে বিশাল বর্ডার দিয়ে বাগান তৈরী করেছে । তারা মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসে মনটা ভাল করার জন্যে । যারা দেখাশুনা করে তারা এই বুদ্ধি বেড় করেছে , ভাল টাকা ইনকাম হয় , অনেক প্রেমিক প্রেমিকা এখানে আসে তবে বাগানে যাওয়া আসার কোন পাবলিক সার্ভিস নেই , নিজের গাড়িতে যেতে হয় ।

সেই বাগানে ঢুকলাে তারা , নির্জন যায়গায় বসে মন খুলে গল্প করার জন্য , ড্রাইভার সাহেদ একটু একটু বুঝতে পারলেও তা অসম্ভব বলে মনে করে , তাই অতটা গ্রাহ্য দেয় না ।

- কচি বসতেই বলল , আচ্ছা তােমার কারখানায় লম্বা করে একটা ছেলে । দেখলাম , কে সে ?

- ও আমার বন্ধু তুষার ।।

- ওকে একা রেখে চলে আসলে যে মাইন্ড করবে না ?

- না , ওইতাে আসতে বলল , বলল , যা আমি কিছুক্ষণ পর বাড়ি যাব । তবে জানাে ওর একটা সুন্দর কাহিনী আছে ।

-কচি আগ্রহের সঙ্গে বলল কি কাহিনী ? শুনলে তুমি অবাক হয়ে যাবে । সচরাচর এমন কাহিনী হয় না করাে ।

- তাহলে বল ।

- না থাক আমরা আসলাম একটু মন খুলে দু'জন দু’জনের গল্প করতে । ভালবাসার আর একটু গভীরে যেতে । তা না আরেক জনের কথা নিয়ে । টানাটানি ।

- কচি একটু আল্লাদির সুরে , না তুমি বল আমি শুনব ।

- ও যখন অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়ে তখন তার ক্লাসের এক মেয়েকে ভীষণ পছন্দ হয় তার , কিন্তু মেয়েদের সাথে কথা বলতে তার হাত পা কাঁপে । তাই বেশ কয়েকদিন কোন কথা না বলে সেই মেয়েটিকে দেখে , কিন্তু কথা বলার । সাহস পায় না । কথা বলতে গেলে তার নাকি কেমন যেন বুকের মধ্যে ধরফর । ধরফর করে । তাই চিন্তা করল সামনা সামনি নয় মােবাইলে পরিচয় হব কিন্তু । মােবাইল নাম্বার পায় কিভাবে । মাঝে মাঝে ব্যাগ থেকে কি যেন একটা সেট বের করে । দেখে দামি মনে হয় । মােবাইলটাও যেমন স্মার্ট , মেয়েটাও তেমনই স্মার্ট । পুরাে স্লিম ।

কিভাবে যে মােবাইল নাম্বার পায় ভেবে পাচ্ছে না তুষার , কোন মেয়ের সাথেও কোন পরিচয় নেই যে তার মাধ্যমে নাম্বারটা পাবে । এক বুদ্ধি করে । তুষার পরের দিন খুব সাহস করে ঐ মেয়েটির পাশে গিয়ে বসল । কিভাবে কথা স্টার্ট করবে ভেবে পাচ্ছে না । মনে মনে সেই কথার রিহারসেল দিচ্ছে বার বার ।

জীবনের রিক্স নিয়ে বলে ফেলল , আপু আপনার মােবাইলটা একটু দেখতাম , খুব সুন্দর দেখতে আপনার সেট , কালকে একটা মােবাইল কিনব তাে । তাই ।

- মেয়েটি হাসতে হাসতে বলল , শিয়র শিয়র , এই বলে মােবাইলটা বের করে দেয় তুষার কে । তুষার মােবাইল নিয়ে তার নিজের নাম্বারে একটা মিসকল দেয় , ব্যাস । নাম্বারটা পেয়ে গেল তুষার । ঠিক সপ্তাহ খানিক পরে রাত বারটার সময় কল । করল মেয়েটির কাছে ।

- হ্যালাে কে সূর্য ?

- ওপাস থেকে সুন্দর চিকন গলায় , না চাঁদ ।

- তুষার বল , এটা সুর্যের নাম্বার না ?

- চদি বলল , না এটা চাঁদের নাম্বার ।

- আপনার নাম কি চাঁদ ? নাকি আমি সূর্য বললাম দেখে আমার সাথে ঠাট্টা করছেন।

- না , আমার নাম সত্যিই চাঁদ ।

-এটা কি রংপুর ?

- না ।

- তাহলে মনে হয় রং নাম্বার । আচ্ছা আপনার নাম কি সত্যিই চাঁদ ?

- বললাম তাে আমার নাম চাঁদ । কেন বিশ্বাস হচ্ছে না ?

- না তা না , কোন মেয়ের নাম চাঁদ এই প্রথম শুনলাম তাে তাই বললাম ।

- তাই ... না ?

- আপনার এই চাঁদ নামটা কে রেখেছে ?

- আচ্ছা আপনার মতলবটা কি বলুনতাে , আপনি চাচ্ছেন সূর্যকে আবার আমার সাথে এততা গল্প কিসের ?

- না না আপনার নাম চাঁদ দেখে আমার প্রশ্নটা মনে হল ।

-আমি পূর্ণিমা রাতে জন্ম গ্রহণ করেছিলাম , তাই আমার নাম চাঁদ রেখেছে ।

- আচ্ছা আপনি বিবাহিত না অবিবাহিত ?

- চাঁদ একটু চটে গিয়ে , আপনি কে ? চালাকি করে আমার কাছ থেকে । সবকিছু শুনছেন । আপনার নাম কি ? কি করেন ? কোথায় থাকেন ?

- তুষার বলল , আমার নাম মেহেদী । লেখাপড়া করি । আপনার সাথে কথা বলে ভাল লাগল , আপনি একটা সাদামাটা মেয়ে , আপনাকে যা জিজ্ঞেস করলাম তাই উত্তর দিলেন । অথচ আজকেই আপনার সাথে আমার প্রথম কথা হচ্ছে । এরপর কথা বললে কথা বলবেন তাে ?

- বলব কিন্তু সব সময় বিরক্ত বা মিস্ কল দিবেন না ।

- ঠিক আছে আজ রাখি আরেকদিন কথা হবে ।

পরের দিন ক্লাসে ------

- তুষার বলল , কেমন আছেন আপু

- চাঁদ বলল , এইতাে এখন একটু ভাল ।

- এখন একটু ভাল মানে ?

- প্রায় এক সপ্তাহ অসুস্থ ছিলাম ।

- সে জন্যই আপনাকে একটু নার্ভাস নার্ভাস দেখি ।

- চাঁদ একটু মুচকি হাসি দিয়ে , আপনি আমাকে খেয়াল করেন ?

- করি মানে , প্রত্যেক দিন খেয়াল করি আপনার মােবাইল নাম্বার জানলে ফোন করতাম ।

আজ তুষার নির্ভয়ে চাঁদের সাথে কথা বলছে । কারণ মােবাইলে । বুঝতে পেরেছে তার মনমানসিকতা কেমন ।

তাে আপু আপনার নামটা যেন কি ?

- আমার নাম চাঁদ । আপনার ?

- আমার নাম তুষার ।

- আপনার বাসা কোথায় ?

- এইতাে কলেজের উত্তর পার্শ্বে । ক্লাসে স্যার এসেছে , কথা বন্ধ , আজ চাঁদের পাশেই তুষার অর্থাৎ মেহেদী ক্লাস করল । ভালই জমিয়েছে , মােবাইলে একজন আর ক্লাসে আরেকজন ।

গল্প শুনতে শুনতে কচি বলল , আচ্ছা ও এ রকম করল কেন ?

- রাসেল বলল , সে মােবাইলেও প্রস্তাব দিবে আবার ক্লাসেও প্রস্তাব দিবে , সে দেখবে মেয়েটি কেমন । সে একজনের প্রস্তাবে রাজি হয় না দু'জনের প্রস্তাবেই রাজি হয় । মেয়েটি যদি ভাল হয় তাহলে অবশ্যই একজনের প্রস্তাবে রাজি হবে আর যদি না হয় তাহলে তাে বুঝতেই পারছাে । দু'জনের প্রস্তাবেই । রাজি হবে । সে মােবাইলে মেহেদী আর ক্লাসে তুষার হয়েই প্রায় তিন থেকে চার মাস পার করে দিল । তুষার মােবাইল এবং ক্লাস দু'টোতেই অনেক ঘনিষ্ট হয়ে গেছে ।

রাত বার টা .....

- হ্যালাে চাঁদ কি করছাে ?

-এইতাে একটু আগেই খাওয়া দাওয়া করে শুয়েছি ।

তুষার ভাবছে আজ সে তার মনের কথাটা বলবে ।

- গল্প করতে করতে তুষার বলল , আমার না মােবাইলে প্রেম করে বিয়ে করার খুব শখ । তুমি কি সেই মেয়ে হবে ?

- চাঁদ একটু লজ্জা পেয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল , হু

-তুমি কেমন আমি দেখতে চাই না , তােমার সাথে আমার মনের মিল হয়ে গেছে , বাস আর কিছুর দরকার নেই ।

- চাঁদ বলল , ঠিক আছে ।

চলবে.........

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.