Header Ads

লাভ (উপন্যাস) পর্ব- ৯


লাভ

                        এম, আব্দুল্লাহ আল মামুন

উপন্যাস পর্ব-৯

অনেক দিন হলাে দুজনের প্রেম গোপনে গোপনে, বাবা মা কেউ জানত না। সাধারণ একটি বই নিয়ে যুক্তা ও শান্তির সঙ্গে অজি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়েছে।

LOVE


-যুক্তা বললাে, তুই আর আমার সঙ্গে কথা বলবি না ।

-শান্তি বললাে, তাের মত বন্ধুরও আমার দরকার নাই । এই বলে শান্তি ক্লাস থেকে বাড়ি চলে এলাে। কিন্তু যুক্তা শান্তির পিছু ছাড়লােনা, সে শান্তির কিছু না। কিছু একটা ক্ষতি করবেই । কিছুক্ষণ পর তার মাথায় একটা কুবুদ্ধি এলো ।

-হৃদয় ও বাবু কলেজে এসে হৃদয় বাবুকে বললো, তুই এখানে একটু দাঁড়া আমি দোকান থেকে একটা আইসক্রীম নিয়ে আসি।

আইসক্রীম খেতে আমাকে ভাল লাগে না। তার চেয়ে তুই আমার জন্য একটা চকলেট নিয়ে আয়।

ঠিক আছে তুই যখন খাবি না আমিও খাব না। এই বলে হৃদয় দৌড়ে দোকানের দিকে গেলাে ।

যুক্তা দূর থেকে বাবুকে দেখে জোরে বাৰু ভাই বাবু ভাই বলে ডাক দিলাে, বাবু তার কাছে কথা শুনতে গেলে সে বললাে, আপনার সাথে কিছু জরুরী কথা আছে কাউকে বলবেন না। বাবু একটু চিন্তিত হয়ে বললাে, ঠিক আছে বলবাে । কি বলবেন বলুন। এখন নয় পরে, ক্লাস শেষ হলে এই বটগাছের নিচে আসবেন। বাবু হৃদয়কে দেখে হৃদয়ের কাছে যেতে বললাে, ঠিক আছে আসবাে। হৃদয় এসে বললাে কিরে ওদিকে কোথায় গিয়েছিলি?

না এইযে এই দিকে। নে খা। এই বলে চকলেট বাবুকে দিল।

চল ক্লাস শুরু হয়েছে ক্লাসে যাই।

এই বলে দু’জন ক্লাসে যেতে যেতে হৃদয় বাবুকে বললাে, আজ শান্তি আসেনি? না মনে হয়। হয়তাে কোথাও বেড়াতে গেছে।

হৃদয় বললাে, তাই বলে আমাকে একটুও সে জানাবে না!

অত চিন্তিত হনে কাল আবার দেখা হবে।

ক্লাস শেষে বাবু হৃদয়কে বললো, হৃদয় তুই একটু বাড়ি যা আমি আসছি। এই বলে হৃদয় রিক্সা নিয়ে বাড়িতে গেলাে।

বট গাছের নিচে এসে দেখে যুক্তা তার জন্যে অপেক্ষা করছে।

বাবু গিয়ে বললাে, কি বলবেন বলুন।

যুক্তা বললাে, আপনাকে একটা কাজ করে দিতে হবে আমাকে।

-কি কাজ ।

-আগে বলুন দিবেন কিনা?

-বারে, আগে বলবেন তো সহজ হলে করবাে না হলে বলবো পারবো না।

-খুব সহজ।

-ঠিক আছে নিন করে দিব।

-শুনুন, ৫ মিনিটের মধ্যে যুক্তা বাবুকে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে বললো, বাবু হাসতে হাসতে কি যেন চিন্তা করে বললো, পারবো পারবাে ১০০ বার পারবাে।

-যুক্তা বললাে, কাল আপনি ঠিক সময় আসবেন।

-বাবু আসবে বলে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে দেখে হৃদয় শুয়ে আছে। হৃদয়কে ডাক দিয়ে বললো কিরে অসময় ঘুমিয়ে আছিস যে। ঘুমায়নি।

-সত্যিই মেয়েরা ভীষণ রহস্যময়ী। তারা কখন কি করে কিছুই বােঝা যায় না।

-বাবু ভাবছে যুক্তার কাজ সে করে দিবে কিনা। ভেবে সিদ্ধান্ত নিল করে দিবে। সে দেখবে হৃদয় কি করে। অবশ্য পরে ক্ষমা চেয়ে নিবো মূল কথা! বাবু হৃদয়ের সঙ্গে একটু মজা করবে।

পর দিন কলেজের এক কোণে বাবু দাঁড়িয়ে আছে। শান্তি কলেজে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তার এক বান্ধবীকে দিয়ে শান্তিকে বললাে, বাবু তােকে কলেজের পূর্ব পার্শ্বে ডাকে তাের জন্য অপেক্ষা করছে কি যেন বলবে।

-শান্তি বললাে, আমি আগে হৃদয়ের সঙ্গে দেখা করে আসি।

-হৃদয় ভাই আসেনি।

-তখন শান্তি বাবুর কাছে গেল কি বলে তা শুনতে। গিয়ে দেখে বাবু ভাই দাঁড়িয়ে আছে।

-বাবু ভাই কি বলবেন?

-বলবাে। চলুন ওদিকে হাঁটি

-এদিকে পিছন থেকে যুক্তা হৃদয়কে ডাক দিয়ে বললাে, হৃদয় ভাই আপনাকে প্রথমেই বলেছিলাম শান্তি আপনাকে ভুলে গেছে। আপনি আমাকে মিথুক বলেছিলেন। এখন তার প্রমাণ দেখুন । ঐ দেখুন শান্তি অন্য এক ছেলের সঙ্গে গল্প করছে। ছেলেটি বিরাট বড় লােকের একমাত্র সন্তান। 

-হৃদয় পিছন থেকে বাবুকে ঠিক চিনতে পারছে না। কিন্তু শান্তিকে চেনা যাচ্ছে স্পষ্ট।

-এদিকে বাবু আর শান্তি গল্প করতে করতে বাবুর বুকে ময়লা দেখে শান্তি তার জামার ময়লাটি ফেলে দিল।

-হৃদয় এই সমস্ত দেখে সহ্য করতে পারছে না। মনে হচ্ছে আসমান তার উপর ভেঙ্গে পড়ছে।

-যুক্তা বললাে, আপনি আরাে ভাল করে দেখুন আমি যাই ।

-হৃদয় ক্লাশ না করে বাড়িতে গেলাে।

-খালাআম্মা বললাে, কি ব্যাপার হৃদয় কলেজে যাওনি?

-গিয়েছিলাম । কলেজে গিয়ে যেন আমার মাথা ঘুরে উঠল তাই চলে এলাম আজ ক্লাশ করবাে না।

-বেশি কিছু হলে মাথায় পানি দিয়ে দেই।

-না, খালাআম্মা লাগবে না এমনি ভাল হয়ে যাবে।

-হৃদয় মনে মনে ভাবছে সেই জন্য শান্তি দুদিন থেকে আমার সঙ্গে দেখা করেনি।

-হৃদয় ভাবতেই পারেনি শান্তি এরকম কাজ করবে। বাবু ঠিকই বলেছে। মেয়েরা ছলনাময়ী, প্রতারক, তাদের মুখ দেখে কিছু বােঝা যায় না। মিথ্যা অভিনয় তারা জানে। কলেজ শেষে বাবু বাড়িতে এসে হৃদয়কে বললাে কিরে আজ কলেজে যাসনি ।

-না যাইনি। -তাহলে শান্তিকে কার সঙ্গে গল্প করতে দেখলাম।

-হৃদয় আশ্চর্য হলে বললাে, তুইও তাহলে দেখেছিস। শান্তিকে এক ছেলের সাথে গল্প করতে?

-বাবু মুচকি হাসতে হাসতে অভিনয় করে বললাে, দেখেছি তবে আমি মনে করেছি তাের সাথে গল্প করছে। সে জন্য আর বেশী কিছু লক্ষ করিনি। কেন ততার সাথে সে দেখা করেনি?

-হৃদয় ভেঙ্গে পড়ে বললাে, তুই ঠিকই বলেছিলি। মেয়েরা রহস্যময়ী তারা এক প্রেমিক পছন্দ করে না। সে আমাকে ভুলে গেছে।

-বাবু বললাে, আমি তাে ভাবতেই পারিনি শান্তি এরকম কাজ করতে পারে। শান্তি এত নীচ। আসলে ধনীর মেয়ে হলে যা হয়। বুঝলি । এই বলে বাবু বাহিরে গেলাে কিছু খাতা কলম কিনতে।

-শান্তি খাওয়া দাওয়া করে ঘরে শুয়ে শুয়ে ভাবছে হৃদয় দুই দিন ধরে কলেজে আসছে না কেন। তার শরীর খারাপ হল নাকি । এখনতাে মা আমাকে বাড়ী থেকে বের হতে দিবে না। অতএব পালিয়ে যেতে হবে। তাই শান্তি চুপ করে মাইক্রো না নিয়ে পালিয়ে গেল ।

-বাড়িতে গিয়ে মিসেস শবনমকে বললাে, আন্টি হৃদয় নেই?

-আছে যাও ঘরে পড়ছে।

-শান্তি গিয়ে দেখে খুব মনােযােগ দিয়ে হৃদয় পড়ছে। পিছন থেকে শান্তি হৃদয়ের চোখ ধরে চুপ করে আছে।

-হৃদয় হাত সরিয়ে শান্তিকে বললো, তুমি এখানে এসেছাে কেন?

-শান্তির খুশি মন হৃদয়ের এই কথা শুনে ভেঙ্গে গেল। অবাক হয়ে শান্তি বললাে, এসব কি বলছাে তুমি?

-কিছু না তুমি এক্ষুণি এখান থেকে চলে যাও। আই সি গেট আউট ।

-হৃদয় তুমি পাগল হয়ে গেলে নাকি। আমার কথা বুঝতে চেষ্টা করাে।

-না, আমি কিছু বুঝতে চাইনা। হ্যা আমি পাগল হয়ে গেছি। আমি পাগল, তুমি এখন চলে যাও এ বাড়িতে কোন দিন তুমি আসবে না। আমি তােমাকে আগেই বলেছিলাম বড় লােকের মেয়েরা এরকমই হয়। আমি ভেবেছিলাম তুমি অন্য মেয়ের মত নও। সত্যি মেয়েরা ছলনাময়ী, খুব সুন্দর অভিনয় জানে। তারা।

-শান্তি বললাে, আমার একটি কথা মনে রেখাে আমি তােমাকেই বিয়ে করবাে। অন্য কাউকে নয়। আর যে তােমাকে মিথ্যা কথা বলে আমার কাছ থেকে তােমাকে দূরে সরে নিয়ে গেছে তাকে আমি বের করবই। এই বলে শান্তি কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেলাে।

-হৃদয়ও টেবিলে বসে কাঁদতে লাগলাে । হৃদয়ের কিছু ভাল লাগছে না। সব কিছু উলট-পালট হয়ে গেল কেন? খালাআম্মা হৃদয়ের ঘরে এসে বললাে, হৃদয়, শান্তি ওভাবে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে গেল কেন?

-এমনি ওর মন চেয়েছে বের হয়ে গেছে।

-এমনি কিছুতেই না অবশ্যই কিছু একটা হয়েছে।

-খালাআম্মা, এখন আপনি যান আমাকে কিছু ভাল লাগছে না। আমি একটু একা থাকবে।

-খালাআম্মা রেগে বললাে, শান্তির যেন কিছু না হয় আমি জানি শান্তি কেমন মেয়ে। মেয়েরা মেয়েদের মুখ দেখলেই বুঝতে পারে সে কেমন মানুষ। শান্তিকেই তােকে বিয়ে করতে হবে। শান্তি নিস্পাপ মেয়ে। এই বলে খালাআম্মা চলে গেল।

-হৃদয় কি করবে ভেবে পাচ্ছে না, হৃদয় ও বাবুর পক্ষে এলাে, মেয়েদের পক্ষ ছেড়ে শুয়ে শুয়ে হৃদয় কাঁদো কাঁদো স্বরে বলছে-

এরা দেবী এরা লােভী এরা চাহে সর্বজন প্রীতি ।

ইহাদের তরে নাহি প্রেমিকের পূর্ণপূজা পূজারির পূর্ণ সমর্পণ

পূজাহেরী ইহাদের ভীরু বুকে তাই জাগে এত সত্য ভীতি।

নারী নাহি হতে চায় শুধু একা কারাে

এরা দেবী এরা লােভী যত পূজা পায় এরা চায় তত আরাে ।

ইহাদের অতি লােভী মন।

-একজনে তৃপ্ত নয় একা পেয়ে সুখী নয় ।

যাচে বহুজন

যে পূজা পূজিনু আমি স্রষ্টা আল্লাহর

যারে দিনু সে পূজা সেই আজি প্রতারণা হানে।

-এমন সময় বাবু ঘরে এসে বললাে, কিরে তুই সঞ্চিতা' পড়তে শুরু করেছিস। যে!

-কি করবাে বল আর কিছু ভাল লাগে না। আমিও এখন তাের পক্ষে মেয়েদের পক্ষ ছেড়ে দিয়েছি। মেয়েরা সত্যি খারাপ।

-বাবু আশ্চর্য হয়ে বললাে, কি ব্যাপার হৃদয় তাের বিছানায় সিগারেট কেন। বাড়িতে কেউ এসে রেখে গেছে নাকি?

-হৃদয় ভাঙ্গা স্বরে বললাে, নারে বন্ধু আমিই কিনে এনেছি। কেউ রেখে যায়নি। বাবু অন্য ঘরে গিয়ে ভাবছে, হৃদয় খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমি ধারণাও করিনি এরকম অবস্থা হবে। আমি না হয় ক্ষমা চেয়ে বলি আমার জন্যই তােদের এই অবস্থা । আবার ভাবলাে দেখি আরাে দুই দিন কি করে হৃদয় ।

শান্তি বাড়িতে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কিছু ঠিক মত খাচ্ছে না। শান্তির মা শান্তির এ অবস্থা দেখে সারা দিন কাঁদে। শান্তির কিছুই ভাল লাগছে হৃদয়কে ছাড়া।

চলবে.............

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.