দুবাই ভিজিট ভিসা কত দিনে হয়—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া Dubai visit visa
সংযুক্ত আরব
আমিরাত
(UAE) বিশ্বের অন্যতম
জনপ্রিয় ভ্রমণ
গন্তব্য। আধুনিকতা, বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, স্কাইস্ক্র্যাপার, চাকরির
সুযোগ
এবং
পর্যটকদের জন্য
দারুণ
অভিজ্ঞতা—সবকিছু
মিলিয়ে দুবাই
এখন
বাংলাদেশিদের কাছে
একটি
‘ড্রিম
ডেস্টিনেশন’।
তাই
অনেকেই
জানতে
চান—
“দুবাই ভিজিট ভিসা কত দিনে হয়?”
এবং
“কীভাবে ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়?”
এই ব্লগে আমি আপনাকে দুবাই ভিজিট ভিসার সময়সীমা, খরচ, কাগজপত্র, আবেদন পদ্ধতি, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স, ভিসা রিজেকশন কারণ, এবং সহজভাবে পাওয়ার টিপস—সবকিছু ধাপে ধাপে জানিয়ে দেব।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা কত দিনে হয়? (সংক্ষেপে)
বাংলাদেশিদের জন্য সাধারণত দুবাই ভিজিট ভিসা ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে হয়। তবে—
|
ভিসার ধরন |
প্রসেসিং সময় |
|
14 Days Single Visit Visa |
3–7 Days |
|
30 Days Single Visit Visa |
3–7 Days |
|
60/90 Days Visit Visa |
5–10 Days |
|
Express Dubai Visa |
24–48 Hours |
|
Urgent Processing |
6–12 Hours (অনেক ক্ষেত্রে) |
⚠ এয়ারলাইন বা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে সাধারণত ৩–৫ দিনের মধ্যেই ভিসা আসে।
শুক্রবার/শনিবার
UAE সরকারি
ছুটি
হওয়ায় প্রসেসিং দেরি
হতে
পারে।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা সম্পর্কে যা জানতেই হবে
দুবাই ভিজিট ভিসা মূলত ভ্রমণ, ট্যুর, ব্যবসায়িক মিটিং, বন্ধুবর বা পরিবারের সাথে দেখা করা—এ ধরনের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়। বাংলাদেশিরা সাধারণত নিচের ধরনের ভিসা নিয়ে যান—
✔ 14 Days Tourist Visa
স্বল্প সময়ের ভ্রমণকারীদের জন্য।
✔ 30 Days Dubai Visit Visa
সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিজিট ভিসা।
✔ 60 Days Visa
দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণ বা স্টে করতে চাইলে।
✔ 96 Hours Transit Visa
অল্প সময় ট্রানজিটে থাকলে।
✔ Multiple Entry Tourist Visa
একাধিকবার ঢোকা–বের হওয়ার সুবিধা।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসার আবেদন করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
দুবাই ভিজিট ভিসার আবেদন করতে মূলত ৩টি পদ্ধতি আছে:
পদ্ধতি–১: ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে (সবচেয়ে সহজ)
বাংলাদেশে শত
শত
অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি আছে
যারা
UAE Licensed Sponsor এর সাথে
কাজ
করে।
এই
পদ্ধতিতে—
- কাগজপত্র খুব কম লাগে
- প্রসেসিং দ্রুত হয়
- ভিসা রেজেকশনের ঝুঁকি কম
- টিকেট + ভিসা কম্বো প্যাকেজ পাওয়া যায়
পদ্ধতি–২: UAE-based Sponsor (বন্ধু/পরিবার)
দুবাইতে কেউ
থাকলে
আপনাকে
স্পনসর
করতে
পারে।
তাদের—
- Residency Visa
- Emirates ID
- Passport-এর কপি
দরকার হয়।
পদ্ধতি–৩: এয়ারলাইন ভিসা প্রসেসিং
এমিরেটসও ফ্লাই দুবাই যাত্রীদের জন্য ভিসা প্রসেস করে।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদন করতে যা যা লাগবে
দুবাই ভিজিট ভিসার জন্য কাগজপত্র খুব বেশি লাগে না। নিচেরগুলো থাকলেই যথেষ্ট:
✔ ১. বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট
- ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ
- কমপক্ষে ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠা
✔ ২. পাসপোর্ট সাইজ ছবি
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে।
✔ ৩. এনআইডি কপি (ঐচ্ছিক কিন্তু ভালো)
✔ ৪. রিটার্ন এয়ার টিকেট
অনেক এজেন্সি নিজেরাই করে দেয়।
✔ ৫. হোটেল বুকিং
ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিই সাধারণত বুক করে দেয়।
✔ ৬. UAE Travel Insurance
২০২৪
থেকে
এটি
বাধ্যতামূলক।
খুব
কম
খরচ—৭০০–১২০০ টাকা।
✔ ৭. ব্যাংক স্টেটমেন্ট (কখনো কখনো)
সব সময় লাগে না, তবে ৩–৬ মাসের স্টেটমেন্ট থাকলে ভালো।
আরো পড়ুন-
জাপান ভিসা গাইড ২০২৬ : বাংলাদেশিদের জন্য সর্বশেষ নিয়ম
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা প্রসেস হওয়ার সময় নির্ভর করে কোন কোন কারণে?
দুবাই ভিসা প্রসেসিং সাধারণত দ্রুত, তবে নিচের কারণে দেরি হতে পারে—
✔ ১. UAE-এর সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার–শনিবার)
এই দুই দিনে কোনো প্রসেসিং হয় না।
✔ ২. ভিসা ভলিউম বেশি থাকলে
বিশেষ করে ঈদ, গ্রীষ্মকাল ও ডিসেম্বর মাসে।
✔ ৩. কাগজপত্রে ভুল থাকলে
ভুল বানান, মিসম্যাচিং তথ্য ইত্যাদি।
✔ ৪. সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স
বিশেষ ক্ষেত্রে সময় বাড়তে পারে।
✔ ৫. Sponsor verification
যাদের sponsor নেয়া থাকে তাদের ক্ষেত্রে দেরি হতে পারে।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা কত দিনের জন্য পাওয়া যায়?
|
ভিসার ধরন |
থাকার মেয়াদ |
বৈধতা |
|
14 Days Visa |
14 Days |
60 Days |
|
30 Days Visa |
30 Days |
60 Days |
|
60 Days Visa |
60 Days |
60 Days |
|
90 Days Visa |
90 Days |
180 Days |
|
Multiple Entry Visa |
30/60 Days |
60–180 Days |
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসার খরচ কত?
দাম এজেন্সি বা এয়ারলাইনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ ধারণা:
|
ভিসার ধরন |
আনুমানিক খরচ (BDT) |
|
14 Days Visa |
8,500–11,000 |
|
30 Days Tourist Visa |
9,500–14,000 |
|
60 Days Visa |
14,000–18,500 |
|
Urgent Visa |
17,000–22,000 |
|
Express 24-Hour Visa |
20,000–30,000 |
খরচ সময় ও এজেন্সি অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কারণ
অনেকেই অল্প ভুলে ভিসা রিজেকশন পায়। সাধারণ কারণগুলো হলো—
❌ আগের UAE ভিসার ওভারস্টে
❌ ব্ল্যাকলিস্ট / Absconding Case
❌ ভুল কাগজপত্র জমা
❌ নাম, জন্মতারিখ বা পাসপোর্ট নম্বর ভুল
❌ পূর্বের ভিসার পেমেন্ট বাকি
❌ Sponsor mismatch
❌ ভ্রমণের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট
⭐ ভিসা রিজেক্ট হলে কি করবেন?
✔ ভিসা রিজেকশন লেটার সংগ্রহ করুন
✔ ভুল তথ্য থাকলে সংশোধন করুন
✔ নতুন পাসপোর্টে আবেদন করতে পারেন
✔ অন্য এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন
✔ ভিন্ন sponsor ব্যবহার করতে পারেন
⭐ দুবাই পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে
ইমিগ্রেশন অফিসার সাধারণত নিচের প্রশ্নগুলো করেন—
- কেন দুবাই এসেছেন?
- কোথায় থাকবেন?
- কতদিন থাকবেন?
- রিটার্ন টিকেট আছে কি?
নরমাল উত্তর দিলেই সমস্যা নেই।
⭐ দুবাই ভিজিট ভিসা সহজে পাওয়ার টিপস
✔ ১. একদম পরিষ্কার স্ক্যান করা ডকুমেন্ট ব্যবহার করুন
✔ ২. রিটার্ন টিকেট এবং হোটেল বুকিং নিশ্চিত রাখুন
✔ ৩. ব্যাংকে কমপক্ষে ৩০–৫০ হাজার টাকা ব্যালেন্স রাখুন
✔ ৪. আগের ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে আরো ভালো
✔ ৫. ভিসা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন
✔ ৬. উদ্দেশ্য (Tour/Business/Visit) পরিষ্কার রাখুন
⭐ দুবাইয়ের ভ্রমণ আকর্ষণগুলো
✔ বুর্জ খলিফা
✔ দুবাই মেরিনা
✔ ডেজার্ট সাফারি
✔ দুবাই ফ্রেম
✔ Miracle Garden
✔ Palm Jumeirah
✔ Museum of the Future
ভিসা পাওয়ার পরে এসব জায়গা ভ্রমণ করতে পারবেন।
✅ দুবাই ভিজিট ভিসা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
1. দুবাই ভিজিট ভিসা কত দিনে হয়?
সাধারণত দুবাই ভিজিট ভিসা ৩–৭ কার্যদিবসের মধ্যে হয়ে যায়।
তবে জরুরি ভিসা ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে।
2. দুবাই ভিজিট ভিসা কি বাংলাদেশ থেকে সহজে পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বর্তমানে দুবাই ভিজিট ভিসা বাংলাদেশিদের জন্য খুব সহজ।
ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে ৯৫% ক্ষেত্রে ভিসা অনুমোদিত হয়।
3. দুবাই ভিজিট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?
-
পাসপোর্ট (৬ মাস মেয়াদ)
-
১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
-
হোটেল বুকিং
-
রিটার্ন টিকেট
-
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স
-
(কখনো কখনো) ব্যাংক স্টেটমেন্ট
4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট কি দুবাই ভিজিট ভিসার জন্য বাধ্যতামূলক?
না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগে না।
তবে ৩০–৫০ হাজার টাকার ব্যালেন্স থাকলে আরও ভালো।
5. কোন কোন কারণে দুবাই ভিসা রিজেক্ট হয়?
-
আগের ভিসার ওভারস্টে
-
ব্ল্যাকলিস্ট
-
ভুল বানান বা তথ্য
-
স্পনসরের তথ্য ভুল
-
পুরনো ভিসা পেমেন্ট বাকি
-
ডকুমেন্ট মিসম্যাচ
অবশ্যই পড়ুন- সৌদি আরব যাওয়ার সহজ উপায়।
6. দুবাই যাওয়ার জন্য কি রিটার্ন টিকেট বাধ্যতামূলক?
হাঁ, রিটার্ন টিকেট ছাড়া ভিসা বা ইমিগ্রেশন দুটিতেই সমস্যা হতে পারে।
7. দুবাই ভিজিট ভিসা কি বাড়ানো যায়?
হ্যাঁ, দুবাইয়ের ভিজিট ভিসা সাধারণত ৩০ দিন করে ১–২ বার বাড়ানো যায়।
নতুন ভিসা লাগলেও এজেন্সির মাধ্যমে করা যায়।
8. দুবাইতে গেলে ইমিগ্রেশনে কী প্রশ্ন করা হয়?
সাধারণত—
-
কেন এসেছেন?
-
কোথায় থাকবেন?
-
কতদিন থাকবেন?
-
রিটার্ন টিকেট আছে কি?
সংক্ষেপে উত্তর দিলেই হয়।
9. দুবাই ভিজিট ভিসা দিয়ে কি চাকরি করা যায়?
না। ভিজিট ভিসা শুধুমাত্র ভ্রমণ/ভিজিট/ব্যবসায়িক মিটিংয়ের জন্য।
চাকরি করতে হলে Employment Visa বা Work Permit প্রয়োজন।
10. ৩০ দিনের ভিজিট ভিসা কতদিন বৈধ থাকে?
৩০ দিনের ভিসা সাধারণত ৬০ দিনের ভ্যালিডিটি নিয়ে আসে।
মানে—ইস্যুর ৬০ দিনের মধ্যে দুবাই প্রবেশ করতে হবে।
11. দুবাই ভিজিট ভিসার বয়সসীমা কত?
ভ্রমণকারীর বয়স সাধারণত ১৮+ হতে হয়।
নিচে হলে guardian paperwork প্রয়োজন।
12. দুবাই ভিজিট ভিসা কি এয়ারলাইন থেকেও করা যায়?
হ্যাঁ। Emirates বা FlyDubai যাত্রীরা এয়ারলাইনের মাধ্যমেও ভিসা করতে পারেন।
13. রিজেকশন হলে কি টাকা ফেরত দেয়?
বেশিরভাগ এজেন্সি ভিসা ফি ফেরত দেয় না।
তাই বিশ্বস্ত এজেন্সি থেকে করাই ভালো।
14. দুবাই ভিজিট ভিসার খরচ কত?
বাংলাদেশে সাধারণত—
-
14 Days: 8,500–11,000 BDT
-
30 Days: 9,500–14,000 BDT
-
60 Days: 14,000–18,500 BDT
15. দুবাই যেতে কি ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। এখন UAE-তে প্রবেশের জন্য ভ্রমণ বীমা আবশ্যক।
16. দুবাই ভিজিট ভিসা কি ছুটির দিনে প্রসেস করা হয়?
না। UAE-এর সপ্তাহান্ত (শুক্র–শনিবার) প্রসেসিং বন্ধ থাকে।
17. মহিলারা কি একা দুবাই যেতে পারবেন?
হ্যাঁ। মহিলা ভ্রমণকারীরা কোনো সমস্যা ছাড়াই একা যেতে পারেন।
18. দুবাই ভিজিট ভিসার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কি প্রয়োজন?
না, এটি প্রয়োজন হয় না।
19. দুবাই ভিজিট ভিসা কি ট্রাভেল হিস্ট্রি ছাড়া পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, নতুন পাসপোর্টেও ভিসা সহজে পাওয়া যায়।
20. কোন এজেন্সি থেকে ভিসা করা উত্তম?
লাইসেন্সধারী এবং বিশ্বস্ত ভ্রমণ এজেন্সি বেছে নেওয়া জরুরি।
ভিসার কপি ইস্যু করার পর UAE Visa Check করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
⭐ উপসংহার
দুবাই
ভিজিট
ভিসা
বাংলাদেশিদের জন্য
বর্তমানে খুব
সহজ।
সাধারণত ৩–৭ কার্যদিবসের মধ্যেই ভিসা পাওয়া যায়।
কাগজপত্র ঠিকঠাক
থাকলে
এবং
সঠিক
এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন
করলে
ভিসা
অনুমোদনের সম্ভাবনা খুবই
বেশি।


কোন মন্তব্য নেই